প্রথম ম্যাচের ছন্নছাড়া ড্রয়ের পর যে সেলেসাওদের তীব্র সমালোচনায় ধুয়ে দিচ্ছিলেন সমর্থকরা, শুক্রবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার মাঠে তারাই ফিরল স্বমহিমায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা স্ট্রাইকার মাথেউস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জাদুকরী পারফরম্যান্সে পুচকে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
এই হারের ফলে ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হাইতির টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘণ্টা নিশ্চিত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল পেয়েছে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত ও দাপুটে জয়, যা তাদের হেক্সা মিশনকে আবার ট্র্যাকে ফিরিয়ে এনেছে।

মরক্কোর বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচে কুনিয়াহকে বসিয়ে রেখে বদলি হিসেবে নামানোর যে অদ্ভুত সিদ্ধান্ত কোচ নিয়েছিলেন, তা যে কত বড় ভুল ছিল, আজ শুরুর একাদশে নেমে প্রতিটা গোলের পর ‘সার্ফিং’ ও ‘সুইমিং’ উদযাপনে তা প্রমাণ করেছেন কুনহা। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের ৬৮,৩২৪ জন দর্শকের সিংহভাগই ছিল হলুদ জার্সির ব্রাজিলিয়ান।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ভিনির শট হাইতিয়ান কিপার জনি প্লাসিডে প্রতিহত করলে রিবাউন্ড থেকে ট্যাপ-ইনে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করে ব্রাজিলকে ১-০ তে এগিয়ে দেন কুনহা। গোল করেই দুই হাত ছড়িয়ে সাগরের ঢেউয়ে সার্ফিং করার চেনা ভঙ্গিতে মেতে ওঠেন এই ফরোয়ার্ড।

এরপর প্রথমার্ধেই ভিনির বাড়ানো পাস ধরে বাঁ পায়ের বুলেট গতির শটে বল জালের ওপরের কোণায় জড়িয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এবার পেটের ওপর ভর দিয়ে সাঁতার কাটার ভঙ্গিতে হাইতিকে যেন টুর্নামেন্ট থেকেই ডুবিয়ে দিলেন কুনহা! প্রথমার্ধের শেষদিকে ভিনিসিয়ুস নিজেই দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে প্রথমার্ধেই হাইতির দফারফা শেষ করে দেন।
ফিলাডেলফিয়া ঈগলসের চিয়ারলিডারদের পারফরম্যান্সের মাঝেই গ্যালারিতে চলে দুই দেশের সমর্থকদের তুমুল স্লোগান যুদ্ধ। হাইতির সমর্থকরা যখন তাদের ঐতিহ্যবাহী রণহুঙ্কার ‘গ্রেনাডিয়ে আলাসো’ (আক্রমণ করো গ্রেনাডিয়ার্স) গেয়ে নাচছিলেন, ব্রাজিলিয়ানরা তখন তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছিল ফুটবলের রাজার ইতিহাস।

স্টেডিয়ামের প্রায় ৬,০০০ ব্রাজিলিয়ান অভিবাসী চিৎকার করে গাইছিলেন, ‘এক হাজার গোল, শুধু পেলে, শুধু পেলে!’ ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনহা ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে একটি গোল করলেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, তবে তা গ্যালারির উৎসবে পানি ঢালতে পারেনি। এমনকি কুসংস্কার এড়াতে সমর্থকরা এবার ফিলাডেলফিয়ার বিখ্যাত ‘রকি’ মূর্তিকে ব্রাজিলের জার্সিও পরায়নি!
টানা দ্বিতীয় ম্যাচের মতো কাফ ইনজুরির কারণে গ্যালারিতে বসে সতীর্থদের খেলা দেখতে হয়েছে পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রকে। তবে ভিনি-কুনিয়াহ জুটি যেভাবে আজ হাইতিয়ান ডিফেন্সকে ছাতু করেছে, তাতে ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি খোঁজা ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।

আগামী বুধবার ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। আজ নকআউট নিশ্চিত করার পর, মায়ামিতে স্কটিশদের ডানা ছেঁটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ৩২-এ যেতে চাইবে আনচেলত্তির এই অপ্রতিরোধ্য দল!
