হিউস্টনের মাঠে তখন ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিট। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়ানোর দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেলি। ব্রুনো গিমারেসের নিখুঁত এক পাস থেকে বল পেয়ে গোলপোস্টের কোণ ঘেঁষে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়লো পুরো হিউস্টন স্টেডিয়াম। ২-১ গোলের এই রোমাঞ্চকর জয়ে জাপানকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলতে জায়গা করে নিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, বেঁচে থাকলো সেলেসাওয়দের হেক্সা মিশন।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর এক দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে গিয়েছিল জাপান। দানিলোর একটি ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার রকেট গতির শট আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে জাপানি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসায়। প্রথমার্ধে জাপানের রক্ষণভাগ ছিল ইস্পাতকঠিন; ব্রাজিলের আক্রমণভাগ বারবার জাপানি ডিফেন্ডারদের দেয়ালের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছিল।

বিরতির পর কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা মাঠে নামেন নতুন উদ্যমে। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের ক্রসে কাসেমিরোর দর্শনীয় হেডার দলকে সমতায় ফেরায়। এরপর ভিনিসিয়াস জুনিয়র জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে কাটিয়ে গোল করার সুযোগ পেলেও দুর্ভাগ্যক্রমে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কাসেমিরোর ইনজুরি ও জাপানি গোলরক্ষকের অসাধারণ কিছু সেভ ম্যাচটিকে ক্রমশ উত্তেজনার চরম সীমায় নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ হাসিটা হেসেছেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা মার্তেনেলি। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলের কাছে হারতে হলো সামুরাই ব্লুদের।

পরিসংখ্যান ও ইতিহাসের মেলবন্ধন: এই জয়ের মাধ্যমে জাপানকে হারানোর রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করল ব্রাজিল। ১৫ বারের দেখায় ১২তম জয় পেল সেলেসাওরা। অদ্ভুত কাকতালীয়ভাবে, সোমবারের এই জয়ের দিনটি ছিল ১৯৫৮ সালে সুইডেনে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের বার্ষিকী, যেদিন ১৭ বছর বয়সী পেলে ফাইনাল মাতিয়েছিলেন। জাপান অবশ্য তাদের ইতিহাসে প্রথমবার নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, কিন্তু মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোল তাদের সেই স্বপ্নকে নিমিষেই ধুলিসাৎ করে দিল।

পরবর্তী গন্তব্য নিউ জার্সি: শেষ ষোলের লড়াইয়ে ব্রাজিল এখন অপেক্ষা করছে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের। আগামী ৫ জুলাই নিউ জার্সিতে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবেন আনচেলত্তির শিষ্যরা। কাসেমিরোর চোট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, শেষ মুহূর্তের এই জয় ব্রাজিলের শিবিরে যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। জাপান বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা এবং কৌশলী ফুটবল সারাজীবন মনে রাখবে ফুটবলপ্রেমীরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা
