প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট যেন ছিল ব্রাজিলের জন্য এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার নাম। জাপানের সুসংগঠিত পাঁচজনের রক্ষণভাগ ভাঙতে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আক্রমণভাগে বল পেলেই জাপানি ডিফেন্ডাররা যেভাবে সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছিলেন, তাতে নেইমার-ভিনিসিয়াসদের চেনা ছন্দ অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরও ব্রাজিলের খেলায় ছিল না সেই চিরচেনা আগ্রাসন। মনে হচ্ছিল, বড় ধরনের অঘটন বুঝি আজ ঘটে যাচ্ছে!

তবে ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়েই কার্লো আনচেলত্তি দেখালেন কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ বলা হয়। লুকাস পাকেতার জায়গায় এনড্রিককে মাঠে নামিয়েই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন তিনি। আনচেলত্তি বুঝতে পেরেছিলেন, জাপানের আঁটসাঁট রক্ষণভাগের সামনে সূক্ষ্ম পাসিং ফুটবল খেললে কাজ হবে না। তাই তিনি বেছে নিলেন ‘ক্রস’ বা হাওয়ায় ভাসানো বলের কৌশল।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল একটার পর একটা ক্রস ফেলতে শুরু করল জাপানের ডি-বক্সে; প্রতি দুই মিনিটে গড়ে একটি করে ক্রস! আর তাতেই কুপোকাত হলো জাপানি দুর্গ।
৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের ভাসানো বলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কাসেমিরোর সেই চিরচেনা রূপ, ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরালেন তিনি। এর ফলে জাপান কিছুটা হলেও রক্ষণাত্মক কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

জাপানিদের ছোট একটি ভুলের সুযোগ নিতে ভুল করেননি ব্রুনো গিমারেস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেলি। গিমারেসের নিখুঁত পাসে মার্তেনেলির ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং শুধু ব্রাজিলকে রাউন্ড অব সিক্সটিনে পৌঁছেই দিল না, বরং এটি ছিল আনচেলত্তির ট্যাকটিক্যাল বিচক্ষণতার এক অনন্য জয়।
ফুটবল মাঠে শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না, কোচ কীভাবে পরিস্থিতি বুঝে নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন, সেটিই দারুণভাবে ফুটিয়ে তুললেন আনচেলত্তি। জাপানের রক্ষণাত্মক মাস্টারক্লাসকে পণ্ড করে দিয়ে ব্রাজিল এখন উড়ছে আত্মবিশ্বাসের ডানা মেলে। মার্তেনেলির শেষ মুহূর্তের ওই গোলটি শুধু একটি স্কোরবোর্ডের সংখ্যা নয়, এটি ছিল ব্রাজিলের জেদ আর আনচেলত্তির রণকৌশলের নিখুঁত মেলবন্ধন!
