বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে, এখন নকআউটের রোমাঞ্চকর মঞ্চে দাঁড়িয়ে। বৃহস্পতিবার ভোরে সান ফ্রান্সিসকোতে শেষ বত্রিশের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। স্বাগতিক দল হিসেবে হোম গ্রাউন্ডে খেলার যে বাড়তি চাপ থাকে, তা অনেকটাই কেটে গেছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, স্কোয়াডের ভেতর এখন একটি শান্ত ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে।

গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে হারলেও তা তাদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারেনি। সাবেক প্রিমিয়ার লিগ তারকা টিম রিম ইএসপিএন’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বাইরের কোনো আলোচনার চেয়ে তারা নিজেদের ভেতরের তাগিদ থেকেই প্রথম ম্যাচে বেশি চাপ অনুভব করেছিলেন। তবে এখন তাদের লক্ষ্য কেবল নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে ম্যাচটি জিতে নেওয়া। কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর দল প্রতিপক্ষের যেকোনো কৌশলের জবাব দিতে প্রস্তুত বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে অন্যতম সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দল হিসেবে এই পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। দলটির শক্তির বড় একটি জায়গা হলো তাদের শারীরিক উচ্চতা। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দীর্ঘকায় এই স্কোয়াডটি (গড় উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি) ইতিমধ্যে কর্নার থেকে তিনটি গোল করে তাদের আকাশপথের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এই ম্যাচে বসনিয়ার জন্য একটি বিশেষ আবেগ কাজ করছে উইঙ্গার এস্মির বাজরাকতারেভিচকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রীতি ম্যাচ খেললেও, পরে বাবা-মায়ের জন্মভূমি বসনিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

ম্যাচের আগে দুই দলেই কিছু ইনজুরি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিশ্চিয়ান রল্ডান, মার্ক ম্যাকেঞ্জি এবং অস্টন ট্রাস্টিকে নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। অপরদিকে বসনিয়ার আমার দেদিচকে নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরছেন তারিক মুহারোমোভিচ।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ১৯৯৪ সালের পর এই দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ খেলতে নামছে। সেবার তারা ব্রাজিলের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এবার অবশ্য টানা দুই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা মাঠে নামবে, যা ১৯৩০ সালের পর বিশ্বকাপে দলটির সেরা ধারাবাহিকতা। তবে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে মার্কিনদের সাম্প্রতিক রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়; ২০০২ সালে পর্তুগালকে হারানোর পর গত ১৩টি ম্যাচে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে তারা জয়ের মুখ দেখেনি। বিপরীতে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বিশ্বকাপে তাদের খেলা এ পর্যন্ত ৬টি ম্যাচের একটিতেও ক্লিন শিট রাখতে (গোল না খাওয়া) পারেনি।
যদিও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্লে-অফ পেরিয়ে এসে টুর্নামেন্টে দারুণ একটি যাত্রা উপভোগ করেছে, তবে ঘরের মাঠে খেলা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে তাদের রক্ষণভাগ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে। ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ঘরের মাঠের দর্শক সমর্থন এবং ছন্দে থাকা পচেত্তিনোর দল বসনিয়ার রূপকথা এখানেই থামিয়ে দেবে। ম্যাচের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে।
