কানাডার বৃহত্তম ও অত্যন্ত ব্যস্ততম একটি সামরিক ঘাঁটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনীর চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে আলবার্টা প্রদেশের ‘ক্যানাডিয়ান ফোর্সেস বেস (সিএফবি) ওয়েনরাইট’ সামরিক ঘাঁটিতে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে। রোববার এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রাণহানি ও অগ্নিকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনাটিকে ‘শান্তিকালীন সময়ে কানাডীয় সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিহত চার সেনাসদস্যের পরিবারকে ইতোমধ্যে এই হৃদয়বিদারক খবর জানানো হয়েছে। নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে দেশের সব ফেডারেল ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কানাডীয় সশস্ত্র বাহিনী (সিএএফ) জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে ঘাঁটিটির অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এলাকা থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে প্রচণ্ড বাতাসের কারণে আগুন মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘাঁটির সীমানা অতিক্রম করে ফেলে।

জাতীয় প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি শুধুই একটি দুর্ঘটনা এবং এতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার ইঙ্গিত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘাঁটিটি আলবার্টার রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত, যা কানাডার সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে ‘ক্যানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার’ এবং ‘থার্ড ক্যানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত, যেখানে হাজারো সেনা নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর পর আহত ও দগ্ধ সেনাসদস্যদের চিকিৎসায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ওয়েনরাইট হাসপাতালের সক্ষমতা পার হয়ে যাওয়ায় এডমন্টন শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোতে জরুরি ‘কোড অরেঞ্জ’ জারি করা হয়েছে।

এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের চিকিৎসক ড. ওয়ারেন থার্স্ক জানান, এটি ১৫-২৫ বছরে দেখা যাওয়া বিরল ও বিশাল বিপর্যয়। ওয়েনরাইটের স্থানীয় হাসপাতালগুলো আগুনে পোড়া রোগীতে একেবারে ঠাসা হয়ে পড়ায় রোগীদের দ্রুত এডমন্টনের অন্য হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এবং প্রতিবেশী প্রদেশের জরুরি উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি এই অগ্নিকাণ্ডকে অভূতপূর্ব হিসেবে বর্ণনা করে নিশ্চিত করেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করছে। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা পিয়ের পোয়েলিভ্রে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীকে ওয়েনরাইটের ভুক্তভোগীদের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় শনিবার গভীর রাতে আগুনের গতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পুরো এলাকা এখনো ফায়ার ফাইটারদের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সশস্ত্র বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
