ইউরোপীয় ফুটবলের বিশাল সব জায়ান্ট ক্লাবগুলোর জন্য যেন এক নতুন বিভীষিকার নাম নরওয়ের ‘আস্পমিরা স্টেডিয়াম’। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে এই বরফশীতল ফাঁদে পা দিয়ে ১-০ গোলের তেতো হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জার্মান পরাশক্তি বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।
আর এর মধ্য দিয়েই বোদো/গ্লিম্টের এই মাঠটি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের ‘সবচেয়ে অপ্রতিরোধ্য ও আতঙ্কজনক দুর্গ’ হিসেবে আরও একবার তুলে ধরল।
আর্কটিক সার্কেলের ওপরে অবস্থিত মাত্র ৮,২৭০ আসনসংখ্যার ছোট্ট এই স্টেডিয়ামটি সফরকারী দলগুলোর সামনে ফেলে দেয় এক জটিল পরীক্ষার মুখে। বরফশীতল হাড় কাঁপানো হাওয়া, ক্ষিপ্র গতির কৃত্রিম (আর্টিফিশিয়াল) টারফ আর বোদো/গ্লিম্টের অবিরাম হাই-প্রেসিং ফুটবল, এই তিনের ককটেল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপের তাবড় তাবড় ক্লাবগুলো।

পরিসংখ্যান কিন্তু বানিয়ে কথা বলে না। ২০২০ সাল থেকে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের মাঠে খেলা ৪৮টি ম্যাচের মধ্যে ৩৭টিতেই জিতেছে বোদো/গ্লিম্ট! আস্পমিরায় এসে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে এএস রোমা, পোর্তো, লাৎসিও, ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাব, আর এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল বরুসিয়া ডর্টমুন্ডও। ম্যাচের পর ডর্টমুন্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আক্ষেপ করে লেখা হয়েছে, কনকনে ঠান্ডা আর দমকা হাওয়ার মধ্যে কৃত্রিম ঘাসের মাঠে স্বাগতিকরাই বলের সেরা ব্যবহারটা করে গেছে।
আস্পমিরা স্টেডিয়ামটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। তীব্র শীত, হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা আর দিনের সংক্ষিপ্ত আলো স্বাগতিকদের জন্য স্বাভাবিক হলেও বিদেশি ফুটবলারদের মানিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। বোদো/গ্লিম্টের তারকা মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গ হাসিমুখে স্বীকারই করলেন, আমরা এই মাঠে খেলা উপভোগ করি। সত্যি বলতে, অনেক নামিদামি দলই কিন্তু এই মাঠে আসতে ভয় পায়!
ম্যাচ জিততে বোদো/গ্লিম্ট যে কৌশল ব্যবহার করে, ফুটবল বিশ্বে তা এখন 'আস্পমিরা ট্র্যাপ' নামে পরিচিত। কৃত্রিম ঘাসের মাঠে বলের বাউন্স এবং গতি সাধারণ প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়, যা নামিদামি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক দুটো দিক থেকেই বেশ চাপে ফেলে দেয়।
যদিও খুব শিগগিরই ঐতিহ্যবাহী ও জরাজীর্ণ এই আস্পমিরা স্টেডিয়ামের জায়গায় একটি নতুন ১০,০০০ আসনসংখ্যার আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি হতে যাচ্ছে, তবে নতুন মাঠে বাতাস ও ঠান্ডার প্রভাব কিছুটা কমলে বোদো/গ্লিম্টের এই অপ্রতিরোধ্য ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বজায় থাকবে কি না, তা দেখার বিষয়!
আপাতত ইউরোপের যেকোনো বড় দলের কাছে আস্পমিরায় খেলতে যাওয়া মানেই যেন নিশ্চিত এক আতঙ্কের মহড়া!
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
