২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি দিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয়ার বিশাল স্বপ্ন দেখছিলো সৌদি আরব। তবে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ আর হুথির ক্ষেপণাস্ত্রের তাণ্ডবে আপাতত সেই ফুটবল উৎসবের ঢোল থামিয়ে দিতে বাধ্য হলো এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
স্বাগতিক সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ড্রোন ও রকেট হামলার পর এশিয়ান কাপ ফুটবল ২০২৭ সালের শুরু থেকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওই বছরেরই শেষ প্রান্তে।
মঙ্গলবার এএফসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২৪ দেশের এই টুর্নামেন্টটি এখন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
গত মাসে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের চালানো এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন। বিগত এক দশকের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণ। এরপর সোমবার দাম্মাম বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভ্রমণ অনিশ্চয়তা ও লজিস্টিক জটিলতা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে এএফসির আয়োজক কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, অঞ্চলটির বর্তমান ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং লজিস্টিক জটিলতার কারণে অংশগ্রহণকারী দল, কর্মকর্তা ও ফুটবলপ্রেমীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই টুর্নামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলাধুলার পেছনে কোটি কোটি ডলার ঢালছে। তিনবারের এশিয়ান কাপ বিজয়ী দেশটি কখনো এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেনি, যা তাদের ২০৩৪ বিশ্বকাপের মহড়া হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রকেট হানায় একের পর এক স্থগিত হচ্ছে তাদের কোটি টাকার স্পোর্টস শো!
ইতিমধ্যেই গলফের ‘সৌদি ইন্টারন্যাশনাল’ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে, বাতিল হয়েছে সাইক্লিংয়ের ‘আরবান ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’। রিয়াদে টেনিসের হাই-প্রোফাইল ‘সিক্স কিংস স্ল্যাম’ টুর্নামেন্ট অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে সরানো হয়েছে এবং ফিফা জেদ্দায় আয়োজিত তাদের একটি আসর স্থগিত করেছে।
আয়োজন পিছিয়ে গেলেও মনোবল হারাচ্ছে না রিয়াদ। লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির প্রধান ইয়াসির আল-মিশেহাল স্থানীয় সংবাদ সংস্থাকে বলেন, সৌদি আরব নির্ধারিত সময়েই টুর্নামেন্ট আয়োজনে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। নতুন ঘোষিত সূচিতে একটি নিখুঁত ও বিশ্বমানের এশিয়ান কাপ উপহার দিতে আমরা এএফসির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাব।
সব খেলা বাতিল না হলেও (যেমন রিয়াদে গত শনিবারই রিং কাঁপিয়েছেন শৌল ক্যানলো আলভারেজ), ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের এই ধোঁয়াশা কাটিয়ে সৌদির রাজকীয় ফুটবল উৎসব কতখানি আলো ছড়াবে, তা দেখতে ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৭-এর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত!
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
