বয়সটা ৩৯, ক্যারিয়ারের শেষ বসন্ত, যেখানে অন্য ফুটবলাররা বুটজোড়া তুলে রেখে আরাম কেদারায় বসেন, সেখানে লিওনেল মেসি যেন আরও বেশি ক্ষুধার্ত, আরও বেশি বিধ্বংসী! ২০২৬ বিশ্বকাপে শুক্রবার রাতে কেপ ভার্দের জালে বল জড়িয়ে ফুটবল বিশ্বকে আরও একবার স্তব্ধ করে দিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। এটি চলতি বিশ্বকাপে মাত্র চার ম্যাচে মেসির সপ্তম গোল।
অদ্ভুত শোনালেও সত্যি, ২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনার পুরো বিশ্বকাপজয়ী অভিযানে মেসি ঠিক যতগুলো গোল করেছিলেন, এবার টুর্নামেন্টের মাঝপথেই সেই সংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি!

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ছিলেন গোলমেশিন। শুধু পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ছাড়া (যেখানে তিনি পেনাল্টি মিস করেছিলেন) সৌদি আরব, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোড়া গোলসহ মোট ৭টি গোল করেছিলেন।
কিন্তু ২০২৬ সালে এসে মেসি যেন নিজের সেই রেকর্ডকেও বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন। এবারের আসরে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক (৩ গোল) দিয়ে শুরু, এরপর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল (২ গোল), জর্ডানের বিপক্ষে বেঞ্চ থেকে নেমে ১ গোল এবং এবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে আরও ১ গোল। মাত্র ৪ ম্যাচেই ৭ গোল, আলবিসেলেস্তে অধিনায়কের এই পারফরম্যান্স ফুটবল পণ্ডিতদেরও ভাষা হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করেছে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে এই গোলের মাধ্যমে মেসি তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে (৬ গোল) পেছনে ফেলে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেসে এককভাবে শীর্ষে চলে গেছেন।

তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের চেয়েও বড় এক বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি এখন শুধুই তার। টুর্নামেন্ট শুরু করার আগে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল ছিল ১৩টি। আর এবার ৪ ম্যাচে ৭ গোল যোগ করে তার মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ‘২০’-এ!
৩৯ বছর বয়সী এই অতিমানব যেভাবে একের পর এক গোল করে চলেছেন, তাতে কিলিয়ান এমবাপে কিংবা অন্য কোনো স্ট্রাইকারের পক্ষে এই বিশ্বকাপে তাকে ছোঁয়া আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। বুড়ো হাড়ের ভেলকিতে মেসি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে ট্রলকারীরাও এখন বলতে বাধ্য হচ্ছে, লিওনেল মেসি সত্যিই এই গ্রহের কেউ নন!
