মেক্সিকোর সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র হাইভোল্টেজ মহারণের আগে মাঠের ফুটবলীয় লড়াইয়ের চেয়ে মেক্সিকো সিটির পাতলা বাতাস এবং ভৌগোলিক বৈরিতা নিয়েই বেশি চিন্তিত ইংল্যান্ড শিবির। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ফুটেরও বেশি উঁচুতে অবস্থিত মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে খেলার শারীরিক ধকল কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা নিয়ে টুর্নামেন্ট জুড়ে নানা আলোচনা চলছিল। এবার স্বয়ং ইংল্যান্ডের হেড কোচ থমাস টুখেল স্বীকার করেছেন, মেক্সিকো সিটিতে পা রাখার পর থেকেই উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি এবং তাঁর দল।
শনিবার মেক্সিকান রাজধানীতে পৌঁছানোর পর নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে টুখেল সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিজেই, যেমন ধরুন হোটেল রুমে থাকার সময় সারাদিন হালকা মাথাব্যথা অনুভব করেছি। আগের দিনগুলোর মতো এখানে শান্তিতে ঘুমাতেও পারিনি। তবে, এটা এমন কিছু নয় যা সামলানো যাবে না, বা যার সাথে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব। শুধু কোচ নিজেই নন, তাঁর শিষ্যরাও যে অনুশীলনে নেমেই এই বৈরী কন্ডিশনের ধাক্কা টের পেয়েছেন, তাও লুকাননি টুখেল। তিনি যোগ করেন, অনুশীলন সেশনের প্রথম কয়েক মিনিটে খেলোয়াড়রাও উচ্চতার প্রভাব টের পেয়েছিল। তবে, সময় যত গড়িয়েছে, তারা পরিস্থিতির সাথে তত ভালো মানিয়ে নিতে পেরেছে।

মেক্সিকোর এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় হুট করে শারীরিক পরিবর্তন আনা অসম্ভব উল্লেখ করে টুখেল বলেন, বাস্তবতা এটাই যে, আমরা এত কম সময়ে শারীরিকভাবে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারব না। এটা একেবারেই অসম্ভব। তবে ম্যাচ শুরুর ঠিক একদিন আগে আমরা এখানে এসেছি যাতে অন্তত অভিজ্ঞতাটা নেওয়া যায় এবং মূল ম্যাচের ওয়ার্ম-আপের সময় যেন সবকিছু প্রথমবার মনে না হয়। তাই ওয়ার্ম-আপের সময় আমরা মূলত বাতাসের গতিতে বলের মুভমেন্ট কেমন হয় এবং ফুটবলারদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সেদিকেই বিশেষ নজর দেব।
ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টুখেল এখনও কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারের মুখ দেখেননি। তবে আগুনে ফর্মে থাকা মেক্সিকোর বিরুদ্ধে এই অপরাজেয় রেকর্ড ধরে রাখা যে কতটা কঠিন, তা ভালো করেই জানেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। এবারের বিশ্বকাপে মেক্সিকো এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচের সবকটিতে জিতেছে এবং অবিশ্বাস্যভাবে একটি গোলও হজম করেনি। ঘরের মাঠে মেক্সিকানদের এই দানবীয় ফর্মের পেছনে উচ্চতার এক বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন টুখেল।
তিনি প্রতিপক্ষকে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, এটা মোটেও কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় যে, মেক্সিকো তাদের ঘরের মাঠে ম্যাচ শুরুর পর থেকেই প্রচণ্ড শক্তিশালী, আগ্রাসী এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। কারণ প্রতিপক্ষের জন্য প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট পার করাটাই সবচেয়ে বড় নরক বা কঠিনতম পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। একবার যদি আমরা প্রথম ২০ মিনিটের সেই শুরুর ঝড় সামলে উঠতে পারি, তবে আমার বিশ্বাস আমরা ম্যাচে দারুণ একটি অবস্থানে পৌঁছে যাব।
এখন দেখার বিষয়, এজতেকা স্টেডিয়ামের শ্বাসরুদ্ধকর পাতলা বাতাস আর মেক্সিকান আগ্রাসন রুখে দিয়ে টুখেল বাহিনী কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে পারে নাকি মেক্সিকোর দুর্গেই সমাধি ঘটে থ্রি লায়ন্সের!
ভোরে আজটেকায় মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের অগ্নিপরীক্ষা