দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইউরোপীয় বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরছে তুরস্ক। আর আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মঙ্গল তুর্কিদের হেড কোচ ভিনচেনজো মন্টেলা ২৬ সদস্যের এক দুর্দান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য অভিজ্ঞ তারকা এবং উদীয়মান তরুণ প্রতিভাদের এক নিখুঁত কম্বিনেশন বেছে নিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

ঘোষিত এই স্কোয়াডের প্রধান সেনাপতি হিসেবে থাকছেন দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক হাকান চাহানোগলু। তবে বিশ্বজুড়ে তুর্কি সমর্থকদের মূল আকর্ষণ ফুটবল দুনিয়ার বর্তমান অন্যতম সেরা দুই তরুণ তুর্কি, রিয়াল মাদ্রিদের সেন্টিনেল আরদা গুলার এবং জুভেন্টাসের ফরোয়ার্ড কেনান ইলদিজ।
মন্টেলার অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে তুর্কি ফুটবলে যে নবজাগরণ দেখা গেছে, তার মূল চালিকাশক্তি এই তরুণরাই। তাঁদের সাথে আক্রমণভাগে যোগ দেবেন বারিস আলপের ইলমাজ, ইউনুস আকগুন, ইরফান কান কাহভেচির মতো তারকারা। এছাড়াও জেনিজ গুল এবং কান উজুনের মতো বেশ কয়েকজন উদীয়মান হাইপড তরুণকে দলে ডেকে বড় চমক দিয়েছেন মন্টেলা।
গোলপোস্ট সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকছে তিন বিশ্বস্ত প্রহরী, আলতাই বায়নদির, মের্ত গুনোক এবং উগুরকান চাকিরের কাঁধে। রক্ষণভাগকে নিশ্ছিদ্র করতে মন্টেলা ভরসা রাখছেন অভিজ্ঞ মেরিহ দেমিরাল, চাগলার সোয়ুনজু, জ্যাকি চেলিক এবং ফের্দি কাদিওগলুর ওপর। মাঝমাঠের দখল ধরে রাখতে অধিনায়ক চাহানোগলুর সঙ্গী হচ্ছেন ইসমাইল ইয়ুকশেক, কান আয়হান, ওরকুন কোকচু এবং সালিহ ওজকান।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তুরস্ককে লড়তে হবে বেশ কঠিন সমীকরণে। ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ‘ক্রিসেন্ট-স্টার’ খ্যাত দলটি। এরপর ২০ জুন সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হওয়ার পর, ২৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তারা গ্রুপ পর্বের শেষ হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে লড়বে স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।
২০০২ সালের বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে দিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল তুরস্ক। ২৪ বছর পর আরদা গুলের ও চাহানোগলুদের এই নতুন ‘প্রজন্ম’ কি পারবে কোচের হাত ধরে সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আমেরিকায় নতুন ইতিহাস লিখতে? তুর্কি ভক্তদের চোখ এখন সেদিকেই!
