ফিফার বেঁধে দেওয়া ডেডলাইন বা সময়সীমা মেনেই অবশেষে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড লক করেছে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি সেনেগাল। সোমবার দলের হেড কোচ পাপে থিয়াও তাঁর প্রাথমিক ২৮ জনের দল থেকে দুই ডিফেন্ডার মুস্তাফা ম্বো এবং ইলাই কামারাকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন। ১০টি আফ্রিকান কোয়ালিফায়ারের মধ্যে সেনেগালের এই তারকাবহুল স্কোয়াডটিকেই সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়ঙ্কর বলে মনে করছেন ফুটবল পণ্ডিতেরা।
দল থেকে বাদ পড়া প্যারিস এফসির সেন্টার-হাফ মুস্তাফা ম্বো ও বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া অ্যান্ডারলেখটের ফুলব্যাক ইলাই কামারা দুজনেই গত ২১ মে প্রাথমিক দলে জায়গা পেয়েছিলেন। গত রোববার শার্লটে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়া প্রস্তুতি ম্যাচে ম্বো বদলি হিসেবে নেমে নিজের আন্তর্জাতিক অভিষেক করলেও, কামারাকে পুরো ম্যাচ সাইডবেঞ্চেই বসে কাটাতে হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, একটি ম্যাচের পরই তাঁদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

চূড়ান্ত স্কোয়াডে প্রত্যাশিতভাবেই সেনেগালের আক্রমণের মূল সেনাপতি হিসেবে থাকছেন ৩৪ বছর বয়সী আল-নাসর মহাতারকা সাদিও মানে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে সেনেগালের দুটি গোলই এসেছিল এই ‘কিং মানে’-র পা থেকে। তাঁর সাথে আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে তছনছ করতে যোগ দেবেন বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিন নিকোলাস জ্যাকসন, এভারটনের ইলিমান এনদিয়ায়ে এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের গতিদানব উইঙ্গার ইসমাইলা সার।
তবে সেনেগালের মাঝমাঠের সবচেয়ে বড় চমক, বায়ার্ন মিউনিখের ১৮ বছর বয়সী টিনএজার মিডফিল্ডার বারা সাপোকো এনদিয়ায়ে। গত রবিবার আমেরিকার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রেখেই পুরো ৯০ মিনিট মাঠে দাপট দেখিয়েছেন এই তরুণ।
তাঁর এই লড়াকু ফুটবল মন জয় করে নিয়েছে কোচ পাপে থিয়াও-এর, যার পুরস্কার হিসেবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত টিকিটটা পকেটে পুরেছেন তিনি। মাঝমাঠের অন্য অভিজ্ঞ মুখগুলোর মধ্যে থাকছেন ইদ্রিসা গানা গেয়ে ও পাপে মাতার সার। এছাড়া গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ এদুয়ার্দ মেন্দিতো আছেনই।

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-তে থাকা সেনেগাল আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মাঠে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ২০০২ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপে, যেখানে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ফুটবল দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল এই সেনেগালই।
ফরাসিদের সাথে প্রথম যুদ্ধের পর ২২ জুন একই ভেন্যুতে নরওয়ে এবং ২৬ জুন টরন্টোতে ইরাকের মুখোমুখি হবে সাদিও মানের দল। ফরাসি বধের সেই পুরোনো ইতিহাস কি আবারও আমেরিকার মাটিতে ফিরিয়ে আনতে পারবে আফ্রিকার এই সিংহের দল? সেনেগাল ভক্তদের হুঙ্কার কিন্তু তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে!
