স্বপ্নে পেয়েছেন চিকিৎসা, আর তাতেই সব ধরণের জটিল রোগ দূর করে দিচ্ছেন শেরপুরের এক কথিত কবিরাজ। আর এই গুজবে কান দিয়ে তার বাড়িতে ছুটছেন হাজার হাজার মানুষ।
দিনের পর দিন মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এ ধরণের প্রতারণা করে যাচ্ছে শেরপুর সদর উপজেলার কথিত কবিরাজ মো. ইদু মিয়া। তিনি সদর উপজেলার ছনকান্দা কুঠুরাকান্দা এলাকার মৃত সামসল হকে ছেলে।

কথিত কবিরাজ ইদু মিয়া দাবি করে বলেন, আমি একজন দিনমজুর। বিভিন্ন জায়গাতে দিনমজুরর কাজ করি। যখন যে কাজ পাই তখন সে কাজই করি। দুই বছর আগে ঘুমের মধ্যে একদিন আমাকে স্বপ্নে দেখায় ফুঁ ও পানি পড়া দিতে। তাহলে সব ধরণের সমস্যা সমস্যা হবে। কিন্তু আমি ভয় পাই। পরে বিক্রমপুর চলে যাই। সেখানে দিনমজুরের কাজ করি। গত দুই মাস আগে একদিন হঠাৎ করেই প্রতিবন্ধী একজন মানুষ আমার কাছে আসে। পরে তাকে স্বপ্নে দেখানো অনুযায়ী আমি ফুঁ ও পানি পড়া দেই। তার দুইদিন পর ওই প্রতিবন্ধী মানুষটা ভালো হয়ে যায়। এভাবেই সব সময় আমার এখানে মানুষ আসতে থাকে।
কি কি ধরণের রোগ দূর করতে পারেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইদু মিয়া বলেন, ব্যথা, প্যারালাইসিস, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেয়েদের গোপন সমস্যাসহ নানা ধরণের রোগ দূর করতে পারি। এজন্য টাকা পয়সা দিতে হয় না রোগীদের। সুস্থ হলে খুশি হয়ে মানুষ ১০/৩০ টাকা দেয়।
সব ধরণের রোগ ভালো করে দিচ্ছে কথিত কবিরাজ ইদু মিয়া এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। ফলে পানির বোতল নিয়ে গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে ছুটছেন মানুষ। যে যেভাবে পাচ্ছে সেভাবে ভিড় করছে এই কবিরাজের বাড়িতে। মানুষের ভিড় ঠেকাতে হিমশিম খাওয়ায় দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া। শুধু তাই নয়, কবিরাজের কাছে পৌঁছতে হলে বাঁশের বেড়ায় ধরতে হবে লাইন। সূর্য ওঠার পর থেকেই শুরু হয় চিকিৎসা। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

ঝিনাইগাতী উপজেলা থেকে বুকের ব্যথা নিয়ে আসা লাভলী বেগম বলেন, আমার আম্মার কাছে ইদু কবিরাজের কথা শুনে এসেছি। ফুঁ আর পানি পড়া খেলে ব্যথা ভালো হবে এজন্যই এসেছি।
জামালপুর সদর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রমজান আলী, রফিক মিয়া বলেন, মানুষের মুখে শুনেছি এখান থেকে পানি পড়া খেলে মানুষ সব রোগ থেকে মুক্তি পায়, এজন্য আমরাও এসেছি। এখন পানি নিয়ে খেয়ে দেখি কতটা কাজ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া বলেন, কেউ বলছে ভালো হয়, আবার কেউ বলছে ভালো হয় না। তবে বেশিরভাগ মানুষ বলছে ভালো হয় না। আমরা তো আর চিকিৎসা করাতে যায়নি। আমাদের কিছু হলে হাসপাতালে যাই।
আরও পড়ুন: রেইনট্রি ধর্ষণকাণ্ডে আসামিদের সাজা জানা যাবে ১২ অক্টোবর
জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনোয়ারুর রউফ বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন কোনো চিকিৎসা নেই। এটা মূলত অপচিকিৎসা, যা রোগীর আরও ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ মানুষদের অপচিকিৎসার শিকার না হতে তিনি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফিরোজ আল মামুন বলেন, ওই এলাকার এমন এক কবিরাজের ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একাত্তর/এসি
