এনআইডি জটিলতার কারণে এতোদিন করোনা প্রতিরোধে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে, সব সঙ্কট কাটিয়ে সরকার এবার বিশেষ ব্যবস্থায় এ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনছে। দেশের মধ্যে চট্টগ্রামেই প্রথম শুরু হচ্ছে এই উদ্যোগ। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য বিভাগে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, সরকার এই জনগোষ্ঠীকে টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আসায় তাদের মৌলিক অধিকারটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে।
আগামীকাল সোমবার (২২ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ টিকাদান কর্মসূচি চলবে।
চট্টগ্রামের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান জানান, মানবিক বিবেচনাবোধ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের এ জনগোষ্ঠীকে করোনার টিকা কর্মসূচির আওতার আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ক্ষেত্রে লাইন লিস্ট অনুসরণ করে তাদের টিকা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, এ জনগোষ্ঠীর কারোরই এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট নেই। ফলে নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে নিবন্ধিত হয়ে টিকা নেয়ার সুযোগ তাদের নেই। কিন্তু একটি শ্রেণীকে টিকার বাইরে রেখে করোনা নিয়ন্ত্রণ দুরূহ। এছাড়া বিষয়টি মানবিকও। সবকিছু বিবেচনা করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার, সিভিল সার্জন মো. ইলিয়াস চৌধুরী ও আমরা মিলে তাদেরকে ভিন্নভাবে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করছি।
ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, গত ১৮ নভেম্বর বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি সংগঠন স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের একটি মত বিনিময় সভার আয়োজন করে। সেখানে তাদের পক্ষে দলনেতা ফাল্গুনি হিজড়া তাদের শ্রেণীকে টিকার আওতায় আনার প্রস্তাব করেন। তাদের এ প্রস্তাবনার আলোকে এ জনগোষ্ঠীকে টিকা দেয়া সম্ভব বিবেচনায় এনে মানবিক এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়া
তৃতীয় লিঙ্গের টিকা কর্মসূচিতে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান, সিভিল সার্জন অফিসের এমও ডা. কাজী ফাহিমা আফরীন ও ডা. মোছাম্মৎ ফয়জুন্নেছা এবং জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া।
একাত্তর/আরএ
