কুমিল্লার বুড়িচংয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের কথা বলে চাঁদাবাজির সময় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের চারজন কর্মচারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে বুড়িচং উপজেলার মনিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেদিন মধ্যরাতেই আটকদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী তাজুল ইসলাম।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের টেকনিশিয়ান শাহ আলম (৫৫), অফিস সহায়ক রবিউল হোসেন (২৮), প্লান্ট অপারেটর শফিকুর রহমান (৫০) ও গাড়ি চালক আইয়ুব আলী (২৫)।
স্থানীয় আবু মুছা জানান, শনিবার বিকেল ৪টার সময় উল্লেখিত চার আসামিসহ অজ্ঞাত আরও দুই ব্যক্তি মনিপুর গ্রামে প্রবাসী তাজুল ইসলামের বাড়িতে যায়। এসময় তারা তাজুল ইসলামের গ্যাস লাইন অবৈধ বলে লাইজার খুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করলে তাজুল ইসলামের মা তাদের তিন হাজার টাকা দেন।
ঘটনার সময় তাজুল ইসলাম বাইরে ছিল। পরে বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন তাজুল ইসলাম। এসময় পাশের বাড়িতে শোরগোল শুনতে পান। সেখান থেকেও চাঁদা আদায় করেন ওই ব্যক্তিরা।
আরও পড়ুন: 'অনুশীলনে পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে সরকারের নীরবতা দেউলিয়াপনা'
বিষয়টি তিনি কৌশলে বুড়িচং থানা পুলিশকে জানান। অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়ে চারজনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ও একটি পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, আটকদের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সচিব খোরশেদ আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। এটা অ্যাডমিনের লোকজন বলতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শংকর মজুমদারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত।
একাত্তর/আরএইচ
