নাটেরের বাগাতিপাড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের দুই প্রার্থীর পক্ষে তার কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ ও ২৫ নভেম্বর অভিযোগগুলো পাওয়া যায়। এনিয়ে একটি ভিডিও একাত্তরের হাতে এসেছে।
ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর দুইটায় উপজেলার জামনগর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের প্রচারে বাগাতিপাড়ায় যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনসহ কয়েকজন।
এসময় জামনগর বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক শাহআলমের (আনারস প্রতীক) প্রচার শেষে বাড়ি ফিরছিল মাহাবুর রহমান ও আহম্মদ আলী। তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনের উপস্থিতিতে কয়েকজন মাহাবুর রহমানকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ধরে আনেন। এরপর সভাপতি তাকে থাপ্পড় মেরে হাতে থাকা কলা জোর করে মাহাবুরের মুখে গুঁজে দেন এবং নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করতে বাধ্য করেন।

এছাড়া সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনের উপস্থিতিতে জামনগর বাজারে মিজানুর রহমান মজনু নামের এক শিক্ষককে নৌকার বিপক্ষে ভোট করায় লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একাত্তরকে বলেন, তিনি কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটান নাই। কিন্তু পরক্ষণেই তিনি সুর পাল্টিয়ে বলেন, ‘আমি তাকে আদর করে কলা খাইয়েছি। যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে। আপনারা ভাইরাল করে দেন।’
আরও অভিযোগ, একই দিনে নৌকার বিপক্ষে ভোট করায় নৌকার সমর্থকরা মারধর করেন আরিফ নামের একজনকে। এতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে নৌকার সমর্থনকারীদের ধাওয়া করে। পরে পুলিশ এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
একই দিনে জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া মোড় বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক শাহআলমের প্রচার অফিস ভাঙচুর করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের কর্মী-সমর্থকরা।
এদিকে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুর রহমান মিঠুর পক্ষে তার স্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুলাল দাস নামে এক ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুলাল দাস (৫৫) ওই ইউনিয়নের চিমনাপুর গ্রামের মৃত অজিত দাসের ছেলে।
দুলালের অভিযোগ, গত ১৯ নভেম্বর বিকেল চারটার দিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুর রহমান মিঠুর স্ত্রীসহ কয়েকজন ভোট চাইতে তার বাড়িতে যান। এসময় নৌকায় ভোট দিতে প্রতিশ্রুতি না দেওয়া এবং নৌকার প্রার্থীর স্ত্রীকে অপমান করার অভিযোগ এনে প্রকাশ্যে দুলাল দাসের মাথা কেটে ফুটবল খেলার হুমকি দেওয়া হয়।
যারা এই হুমকি দেন তারা হলেন- একই গ্রামের মৃত নজা শাহর ছেলে রানা শাহ, মৃত সাদেক আলীর ছেলে শাজাহান (৪৫), জসমত আলীর ছেলে শাহাদত (২৮)।
এসময় দুলাল দাসকে বাড়ি থেকে বের হতে বারণ করে হুমকিও দেন তারা।
এ বিষয়ে দয়ারামপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুর রহমান বলেন, তিনি এবং তার কোনো সমর্থক কাউকে হুমকি দেননি।
মাহাবুর দাবি করেন বলেন, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এসব ছড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বিপক্ষে অনবদ্য টেস্ট সেঞ্চুরি লিটনের
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এমন কোনো হুমকি বা নির্যাতনের ঘটনা তিনি জানতেন না। তবে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে শুনেছেন। পরে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৮ নভেম্বর নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
একাত্তর/এসি
