আজ নীলফামারীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় যে চারজন মারা গেছেন তাদের মধ্যে ছিল তিনটি শিশু ও একজন তরতাজা যুবক। যুবকের নাম শামীম। বয়স ৩০। এলাকার মানুষ তাকে পরোপকারী হিসেবেই চেনে। গ্রামের কেউ বিপদে পড়ুক, কেউ অসুস্থ হোক- সবার আগেই এগিয়ে আসতেন শামীম। সেই পরোপকারী প্রাণটিও আজ খোয়া গেলো। আর আজ শামীম যা করেছিলেন বেঁচে থাকলে হয়তো সিনেমার হিরোরাও হার মানতো তার কাছে। তবে যে চেষ্টা আজ শামীম করে গেছেন তা অবশ্যই ভার্চুয়াল জগতের কোনো হিরোর স্বপ্নের মতো। শামীম বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি ছিলেন ‘রিয়েল হিরো’।
অনেকেই আজ কাছ থেকে দেখেছেন শামীমের এই হার না মানা দৃশ্য। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন অবুঝ শিশু (ভাই-বোন) খেলছিল রেল লাইনে। ট্রেন প্রায় কাছাকাছি। রেল লাইনের পাশে দাঁড়ানো শামীম ওই তিন শিশুর বিপদ দেখে রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। সে অভিযানে এক শিশুকে কোলে তুলে সরে আসার সময় ট্রেনের ধাক্কায় লাইনে পড়ে আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অপর দুই শিশু ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
শামীমের ভায়রাভাই জেলা শহরের নিউ বাবুপাড়ার আক্রাম হোসেন জানান, শামীম এক সময়ে ঢাকায় এফডিসিতে চাকরি করতেন। সেখানে চাকরির সুবাদে কয়েকটি চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন। সেখান থেকে দুই বছর আগে বাড়ি ফিরে সংসার দেখাশোনা করছিলেন। এরই মধ্যে রেলপথের বউবাজার নামক স্থানে একটি সেতুর সংস্কার কাজ চলছিল। তাকে সেই কাজের দেখা শোনার দায়িত্ব দেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বুধবার সকালে সে দায়িত্বে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এরই মধ্যে দুর্ঘটনা থেকে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই প্রাণ হারান।
তিনি বলেন, শামীম অত্যন্ত একজন ভদ্র স্বভাবের ছেলে। মানুষের উপকার করা তার নেশা।
শামীমের মামি রুমি আক্তার জানান, প্রায় সাত বছর আগে শামীমের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে মিত্তাহুল জান্নাত নামে ছয় বছরের এক মেয়ে সন্তান আছে। বাবা আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন অনেক আগেই। স্ত্রী, সন্তান এবং মা চিনু বেওয়াকে নিয়ে তার পরিবার। কোথা থেকে এখন আসবে এই পরিবারটির অন্ন?
যদিও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত শামীমের পরিবার ১০ হাজার টাকা আর শুকনো কিছু খাবার পেয়েছে। কে জানে আজকের পর শামীম, তার পরিবারকে কেউ মনে রাখবে কি না!
তবে স্থানীয়দের একটাই অভিযোগ, রেলক্রসিং না থাকায় ঝড়ে গেলো চারটি তাজা প্রাণ।

একাত্তর/এসি
