নানাবিধ আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বর্তমানে আরব আমিরাতের দুবাই বিমানবন্দরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে এ খবর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, মুরাদ বর্তমানে বিমানবন্দরের তিন নম্বর টার্মিনালে রয়েছেন।
দুবাই বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুরাদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের কোন অনুমতিও দেয়নি বলে জানা গেছে।
নারী বিদ্বেষী কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য বিতর্কিত হয়ে উঠা সংসদ সদস্য মুরাদের পাসপোর্টে আরব আমিরাতের কোন ভিসা নেই।
সেই সাথে বিমানবন্দরের ইমিগ্ৰেশন বিভাগের পক্ষ থেকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর কারণ জানতে চাওয়া হলে মুরাদ তার সঠিক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
আমিরাতে প্রবেশের জন্য মুরাদের সামনে একটি মাত্র উপায় রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস যদি দুবাই ইমিগ্রেশনে তার ভিসার জন্য অনুরোধ করে তবেই দেশটিতে ঢুকতে পারবেন তিনি।
একাত্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুরাদকে দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঢাকায় ফেরত পাঠাতে পারে। ঠিক যেভাবে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, একইভাবে ফেরত পাঠানো হতে পারে তাকে।
সবশেষ পাওয়া একটি খবরে জানা গেছে, রোববার (১২ ডিসেম্বর) ভোরে মুরাদ শাহজাজাল বিমানবন্দরে নামতে পারেন। তবে কোন এয়ারলাইন্সে তিনি ফিরছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে ৭ ডিসেম্বর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ৯ ডিসেম্বর রাতে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে কানাডার উদ্দেশ্য তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টে ঢাকা ত্যাগ করেন।
কানাডার বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি মুরাদকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়নি। তাকে টরেন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
কানাডায় বসবাসরত মুরাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও, কানাডার সরকারি কোন সূত্র থেকে এই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
আরও পড়ুন: ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং রক্ষা করে র্যাব’
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর ১.৩১ মিনিটে টরেন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন।
এসময় কানাডা ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে তাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
বিপুল সংখ্যক কানাডিয়ান নাগরিক কানাডায় তার প্রবেশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলেও তাকে জানানো হয়।
একাত্তর/এসএ/আরএ
