পটুয়াখালীর দুমকিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে চাচা-ভাতিজা মিলে ধর্ষণের পর আপত্তিকর ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে কামরুল আকন (২০) ও হাবিব আকন (২৬) নামের চাচা-ভাতিজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের আকনবাড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত ২০ মে রাতে উপজেলার মুরাদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থীকে পাশের বাড়ির আ. হক আকনের ছেলে কামরুল ও তার চাচা হাবিব আকন ওই শিক্ষার্থীর নির্জন বসতঘরের পিছনে বাগানে নিয়ে ঢুকে ধর্ষণ করে।
এসময় ধর্ষকরা ধর্ষণের ছবি মোবাইলে ধারণ করে এবং ঘটনা কাউকে বললে ছবি ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেয়। সেসময় ভুক্তভোগী ভয়ে ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানায়নি।
ঘটনার পাঁচ মাস পর অভিযুক্তরা গত ১১ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিটি ফাঁস করে দেয়। ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দুমকি থানা পুলিশ ধর্ষক কামরুল ও হাবিব আকনকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: মাটি খুঁড়ে অপহৃত জেএসএস নেতার মরদেহ উদ্ধার
ভুক্তভোগী আটককৃত কামরুলের দুর সম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে ও অপর আটককৃত হাবিবের চাচাতো বোন।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আ. সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষা করে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।
প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারকৃতরা জবানবন্দীতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, দুমকির ওই ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে তদন্ত করা হবে।
একাত্তর/এসজে
