শীত মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আখের রস থেকে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড়, যা স্থানীয় ভাষায় লালী নামে পরিচিত। সাথী ফসল হিসেবে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আবাদকৃত আখের রস থেকেই তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই লালী।
প্রতি মৌসুমে চার মাস লালী উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে শতাধিক পরিবার। কৃষি বিভাগ আশা করছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৫২ মেট্রিক টন লালী উৎপাদিত হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা ।
ক্রমশ আখের আবাদ কমে গেলেও এখনও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিছু মানুষ অতীত ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে।
এর মধ্যে বিজয়নগর, কসবা ও বাঞ্ছারামপুরে আবহাওয়া আখ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানকার উৎপাদিত আখের রস থেকেই তৈরী হচ্ছে লালী।
এক সময় এ তিন উপজেলার ঘরে ঘরে লালী তৈরী হত। নতুন নতুন ফসল আসায় আখের আবাদ কিছুটা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কমেছে লালী উৎপাদনকারীর সংখ্যাও।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত দুই
এখনো বিজয়নগর উপজেলার শতাধিক পরিবার এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। কৃষি কাজের পাশাপাশি বছরে কয়েক মাস তারা লালী উৎপাদন করছে। কানি প্রতি জমির আখ ৫০/৬০ হাজার টাকায় কিনে মাড়াইকৃত আখের রস দু থেকে আড়াই ঘন্টা জ্বাল দিয়ে লালী তৈরী করা হয়।
প্রতি পাঁকে প্রায় ২৫ কেজি লালী পাওয়া যায়। প্রতিবছর অগ্রহায়ন থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত ৪ মাস চলে উৎপাদনের কাজ। উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতরা জানালেন উৎপাদিত লালী বিক্রি করে প্রতি মৌসুমে বাড়তি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয়।
বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা প্রতি কেজি লালী ৮০ টাকা দরে কিনে নেয়, যা খুচরা টাকায় কেজিতে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লালী তৈরীর কাজ করছেন তারা। ১ কানি জমির আখ দিয়ে তৈরী হয় ১৭-১৮ মন লালী।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রবিউল হক মজুমদার জানান, ক্ষতিকর কোন উপাদান যাতে মিশানো না হয় সে ব্যাপারে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
একাত্তর/টিএ
