নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনকে ঘিরে আবারো সামনে এসেছে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতির মেরুকরণ।
১০ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করা সেলিনা হায়াৎ আইভীর চ্যালেঞ্জ সরকারের ভাবমূর্তি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভাজন।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের সাথে আছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। তৈমুর বলছেন, জনগণের পাশে থাকতে কারো দস্তখতের প্রয়োজন নাই।
১৮ বছর নারায়ণগঞ্জ নগরের দায়িত্বে সেলিনা হায়াৎ আইভি। আট বছর পৌর চেয়ারম্যান ও ১০ বছর মেয়র। দেশের প্রথম নারী মেয়রও তিনি।
শুরু থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথায় নিয়ে মাঠে আছেন আইভি। এবারও পরিস্থিতি একই। যার প্রমাণ কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডে জন্য ১৭ জন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া।
তবে আইভী মনে করছেন, বরাবরের মতোই ভোটে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান পাশে আছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে আচরণবিধির কথা মনে করিয়ে দিলেন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ আইভি।
জাতীয় পার্টিও আইভিকে সমর্থন দেয়নি। নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমান। ফলে আইভির উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড ছাপিয়ে সামনে এসেছে পরিবার ও ভোটের নানা সমীকরণ।
২০১১ সালে ভোট শুরুর সাত ঘণ্টা আগে সরে দাঁড়ায় বিএনপি। নির্বাচনী মাঠে দাপিয়েও দলের সিদ্ধান্ত মেনে বসে যেতে হয় তৈমুর আলম খন্দকারকে। ১০ বছর পর এবার তাকে হারাতে হলো দলীয় পদ। তবু আশাবাদী তৈমুর।
আরও পড়ুন: ইভিএম নিয়ে তৈমুরের শঙ্কা, স্বাগত জানাচ্ছেন আইভি
যদিও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কোন ছায়া পড়েনি স্থানীয় বিএনপিতে। প্রচারে নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি কি ভোটের কৌশল? এমনের জবাবে সরাসরি কোন জবাব না দিয়ে তৈমুর বলেন, জনগণ পাশে থাকলে কারো সই নিয়ে নির্বাচন করার প্রয়োজন পড়ে না।
নগরটির পরিসংখ্যান বলছে দলীয় পরিচয়ের চাইতে স্বতন্ত্র হিসেবেই বেশি ভোট পেয়েছিলেন আইভী। রাজনীতির নতুন সমীকরণে এবার সেই অবস্থানে তৈমুর। ১৬ জানুয়ারি সব সমীকরণের জবাব মিলবে ভোটে।
একাত্তর/আরএ
