পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বই নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হায়দার আকবর খান রনোর

'মোমেন আমাকে নিয়ে জাজ্বল্যমান মিথ্যা লিখেছেন'

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৩৪ পিএম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আকবর খান রনো সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের লেখা বই ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এ কে আব্দুল মোমেন তার বইতে হায়দার আকবর খান রনোকে জিয়াউর রহমান ও এরশাদ-এর পদলেহনকারী উল্লেখ করায় এই প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে নিয়ে জাজ্বল্যমান মিথ্যা কথা লিখেছেন। 

নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একাত্তরকে সিপিবির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে আমি ক্ষুব্ধ এবং হতভম্ব। আমার সম্পর্কে কেউ এই কথা বলতে পারে সেটা আমি কল্পনাও করতে পারি না। আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার এই মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্যে আহ্বান রাখছি।

আরও পড়ুন: সামনে দাঁড়ানো নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নিজের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বর্ষীয়ান এই কমিউনিস্ট নেতা জানান, এরশাদ শাসন আমলে আমার এরশাদ বিরোধী ভুমিকার কারণে পঞ্চাশবারের বেশি আমার বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে, আর আমাকে বলা হচ্ছে এরশাদের পদলেহনকারী। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। 

জিয়ার শাসন আমলের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে সেই সময়েও প্রকাশ্যে জিয়ার বিরোধিতা করেছিলেন জানান তিনি। 

'কেন আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে?' প্রশ্ন রেখে হায়দার আকবর খান রনো বলেন, আমার যখন করোনা হয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি আমি এবং আমার ছোটভাই (হায়দার আনোয়ার খান জুনো) যখন অসুস্থ ছিলাম তখন প্রধানমন্ত্রী ফোন করে আমার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছিলেন, নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সহায়তা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার সম্পর্ক হৃদ্যতাপূর্ণ। তার মন্ত্রী কেন আমাকে নিয়ে এমন কথা লিখলেন আমি বুঝতে পারছি না।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের লেখা বই ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে এক বিবৃতিত পাঠান হায়দার আকবর খান রনোর। বিবৃতি তিনি বলেন,  

‘সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন-এর লেখা একটি বই ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ আমার নজরে এসেছে। বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি। যদিও শিরোনামে মহান ঐতিহাসিক পুরুষের নাম রয়েছে, বস্তুত বইয়ের ভেতরে অনেক অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর ও ভুল তথ্য রয়েছে। 

আমি তার সবগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই না, কারণ তাতে আমার লেখাটি অনেক বড় হয়ে যাবে। আমি শুধু আমার প্রসঙ্গে যে বানোয়াট তথ্য পরিবেশিত হয়েছে, সেটার সম্পর্কেই কিছু কথা বলব।

বইটির ৭৮ পৃষ্ঠায় লেখক তাঁর ভাষায় যাঁরা ‘জিয়াউর রহমান ও এরশাদ-এর পদলেহন’ করেছেন, তাঁদের তালিকা দিয়েছেন, তার মধ্যে আমার নামও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। রাজনীতি ও ইতিহাস সম্পর্কে যাঁদের সামান্যতম ধারণা আছে, তাঁরা জানেন যে, এটা কত বড় মিথ্যা ও বানোয়াট। 

বাষট্টি সাল থেকে ষাটের দশক জুড়ে বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ যে আন্দোলন করে এসেছে এবং গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, আমি তার একজন সংগঠক ছিলাম, তা কোনো অজানা বিষয় নয়। আমি ষাটের দশকে অনেকবার কারারুদ্ধ হয়েছি। প্রথমবার ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একই সেলে (২৬ সেলে) থাকার বিরল সুযোগ আমার হয়েছিল। এসব খবর হয়তো মোমেন সাহেবের জানা নাও থাকতে পারে। কারণ তিনি তখন আইয়ুব খানের ছাত্রসংগঠন এনএসএফ করতেন। 

পরবর্তীতে আমি মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেছি, সেটাও অজানা বিষয় নয়। বর্তমান সরকার প্রণীত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় আমার নামটি আছে। কিন্তু জনাব মোমেন মুক্তিযুদ্ধ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করেছিলেন।

আমি যে জিয়া সরকার ও এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, সে জন্যে বারবার হুলিয়া হয়েছে এবং আমার বাসায় যে মিলিটারি পুলিশ কতবার রেইড করেছে, তা আমার পক্ষে হিসেব করে বলা কঠিন। 

জনাব মোমেন এসব কথা জানেন না, কারণ তিনি তখন ছিলেন রাজনীতির বাইরে সরকারের একজন মধ্য-স্তরের কর্মচারী। তাঁর জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই যে, কাজী জাফর আহমেদ জিয়ার মন্ত্রীসভায় গেলে আমি এবং রাশেদ খান মেনন তাঁর বিরোধিতা করি এবং সে কারণে আমাদের তখনকার দল ইউপিপি ভেঙে যায়। মেনন এবং আমি জিয়ার ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের তীব্র বিরোধিতা করেছিলাম। প্রসঙ্গত বইয়ের ১৬ নং পৃষ্ঠায় তিনি জিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

এরশাদ-বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় ১৫ দলের যে যৌথ বিবৃতি দিয়ে, যার প্রথম স্বাক্ষরটি ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, সেই যুক্ত বিবৃতিতে আমার স্বাক্ষরও ছিল। 

এরশাদ-বিরোধী আন্দোলন ও ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে আমার সক্রিয় ভূমিকা তখনকার কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অথবা বর্তমানের কোনো সৎ ঐতিহাসিকের অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু সেটা জানেন না বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

আমার সম্পর্কে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু ভুলই নয়, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বটে। আমি তাঁর এই মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্যে আহ্বান রাখছি।’


একাত্তর/এআর

বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে খুশি হয়েই তাকে এই সরকারের অংশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। 
ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে কোনো চুক্তি হয়নি জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেতারা চুক্তি ও স্মারকের পার্থক্য বোঝে না।...
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করেন তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নিবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ উত্তেজনা প্রশমনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান ও কাতার। 
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনটিটি)- এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয়...
রোববার নিউ জার্সির রাতে লাল জার্সিতে দ্বিতীয় নক্ষত্র খোদাই করে বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস লিখেছে স্পেন। তবে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ঠিক কী ঘটেছিল...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর