নতুন পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে পটুয়াখালীর জাহাজমারা দ্বীপে। সেখানে একদিকে শ্যামল সবুজ বন আর অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের গর্জন। পরিবেশও নিরিবিলি।
বাসিন্দারা বলছেন, এই চার থেকেও দেয়া যায় সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত। তারা মনে করেন, দ্বীপের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও পর্যটকরা ছুটে আসবেন।
প্রায় তিন যুগ আগে জেগে উঠলেও, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা দ্বীপটিকে খুব বেশি দিন ধরে চেনে না আশপাশের মানুষ। এক যুগ আগেও দ্বীপটি অপরিচিতিই ছিলো।
তবে রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের এই নির্জন দ্বীপটিতে চিনতে শুরু করেছেন সেখানের মানুষরা।
কারণ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে পর্যটকরা জাহাজমারা দ্বীপে ছুটে যাচ্ছেন কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে। এজন্য দ্বীপটির অস্তিত্ব জেনেছে আশপাশের মানুষও।
জাহাজমারা দ্বীপে রয়েছে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যঘেরা সমুদ্র সৈকত। যেখান থেকে সূর্য ওঠা আর সূর্য ডোবার দৃশ্য দেখা যায় সারা বছর জুড়েই।
প্রতি শীতে দ্বীপটির বাড়তি আকর্ষণ হিসাবে দেখা মেলে লাখো লাখো অতিথি পাখির। দ্বীপটি নিরিবিলি বলে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে জাহাজমারা।
সৈকতের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে এক কিলোমিটারেরও বেশি সংরক্ষিত বনে কেওড়া, ছৈইলা, বাইন, নিম, খৈয়াবাবলা, বাবলা বলইসহ পাঁচ লাখেরও বেশি গাছ রয়েছে।
পর্যটকরা বলছেন, সরকার এটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা না করলেও পর্যটকরা একটু স্বস্তির খোঁজে এখানে ছুটে আসছেন।
অথচ সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এসব স্থানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হতে পারে, আর সরকারও আয় করতে পারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

নৌপথই সারাদেশের সঙ্গে রাঙ্গাবালীর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তাই ফেরি সেবা ও সেতু নির্মাণ হলে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সেখানে নিরাপদে যেতে পারবেন পর্যটকরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কোড়ালিয়া থেকে পানপট্টি ফেরি সেবা চালু হলে সারাদেশের সঙ্গে রাঙ্গাবালীর সড়ক যোগাযোগ চালু হবে।
পটুয়াখালী চার আসনের সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিব জানিয়েছেন, সেখানে রাস্তা নির্মাণ, বিশ্রামের জন্য ছাউনি এবং শুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ বসানো হয়েছে।
