ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ রাজ্যে তিন দিনের জন্য সব হাই স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ ও এনডিটিভি জানায়, বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে তিন দিনের জন্য বন্ধ থাকবে রাজ্যের স্কুল ও কলেজগুলো।
কর্ণাটকের উডুপি ও চিক্কামাগালুরুতে ক্লাসে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিয়ে আপত্তি তোলে হিন্দু ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো।
শুক্রবার ও শনিবার বিজেপি ও আরএসএস সমর্থিত কয়েকশ' শিক্ষার্থী হিন্দুত্ববাদীদের প্রতীক গেরুয়া রঙের উত্তরীয় পরে তাদের কলেজে মিছিল করে। এবং হিজাবের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। মঙ্গলবার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে।
এদিকে একটি কলেজের একদল শিক্ষার্থী তাদের কলেজে ভারতের জাতীয় পতাকা নামিয়ে সেখানে গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে সে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, মান্ডিয়ায় গেরুয়া উত্তরীয় পরা একদল ছাত্র হিজাব পরা এক মুসলিম ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে। তারা বারবার ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান দিলে ওই ছাত্রীকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করে। এ সময় পাল্টা প্রতিবাদ হিসেবে ওই ছাত্রী ‘আল্লাহু আকবর’ বলেন।
এমন পরিস্থিতিতে কর্ণাটকের বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই বুধবার থেকে তিন দিনের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার এক টুইটে তিনি বলেন, আমি সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্কুল ও কলেজের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি কর্ণাটকের সব মানুষের প্রতি শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। পরবর্তী তিন দিন সব হাই স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আমি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শপথ নিলেন নাসিক মেয়র আইভী
এর আগে জানুয়ারি মাসে রাজ্যটির উডুপির সরকারি গার্লস পিউ কলেজের ছয় শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, হিজাব পরার জন্য ক্লাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাদের। কলেজে আসলেও তাদের ক্লাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ক্লাস কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই হিজাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
একাত্তর/আরবিএস
