দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ধানমণ্ডির আফরোজা বেগমের বাসায় বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে আসছিলেন মো. বাচ্চু মিয়া। এই দীর্ঘ পরিক্রমার এক পর্যায়ে মনিবের অর্থ সম্পদের প্রতি লোভ জন্মায় তার।
সেই লোভ থেকে ঠাণ্ডা মাথায় আফরোজা বেগমকে হত্যা করে তার টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের পরিকল্পনা সাজান বাচ্চু মিয়া। পরিচিত এক নারীকে বাসার কাজের বুয়া সাজিয়ে আফরোজা বেগম ও আরেক পরিচারিকাকে হত্যার পর দুইজন মিলে লুট করেন বাসায় থাকা স্বর্ণালঙ্কার।
বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই'র অর্গানাইজড ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান।
তিনি জানান, রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় দুই বছর আগে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সেইসাথে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, নিহতের মোবাইল ফোন ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ধানমণ্ডির ১৫ নং রোডের লোবেলিয়া এপার্টমেন্টে ঘটে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড।
আরও পড়ুন: নাম-চেহারা পাল্টে ২০ বছর আত্মগোপনে থাকা খুনি গ্রেপ্তার
পিবিআই জানায়, ঘটনার কিছুদিন আগে ধানমণ্ডি এলাকায় সুরভী আক্তার নাহিদা নামে এক নারীর সাথে পরিচয় হয় বাচ্চু মিয়ার। সুরভী ওই এলাকায় কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন।
কথাবার্তা ও ফোন নম্বর আদান-প্রদানের এক পর্যায়ে সুরভীকে নিয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা ও লুটের পরিকল্পনা করেন বাচ্চু মিয়া।
অবশেষে নভেম্বরের ১ তারিখ সুরভীকে পরিচারিকা সাজিয়ে আফরোজা বেগমের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। কিছুক্ষণ আলাপ ও কাজের পর বিকেল চারটার দিকে বাচ্চু মিয়া বাসায় গিয়ে আফরোজা বেগমের কাছে আলমারির চাবি চান।
চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুইজন মিলে তার শরীরে বারবার ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনা দেখে ফেলায় বাসার আরেক পরিচারিকা দিতিকেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেন তারা। ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের।
এরপর আলমারি থেকে একটি স্বর্ণের চেইন, একজোড়া স্বর্ণের চুরি ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান বাচ্চু মিয়া ও সুরভী।
ঘটনার পর নিহতের মেয়ে এ্যাডভোকেট দিলরুবা সুলতানার (৪২) করা মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তারা ২৬ দিন তদন্তের পর মূল দুই আসামিসহ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করে।
পরে মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেয়া হলে আসামি সুরভীর দেয়া তথ্যমতে আগারগাঁওয়ের ভাড়া বাসার মাটি খুঁড়ে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
