ইউক্রেনে যুদ্ধ চালানো থেকে রাশিয়াকে বিরত রাখতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হুমকি-ধামকি দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে থামাতে চাইছেন জো বাইডেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের এত মরিয়া প্রচেষ্টার কারণ কী, এ নিয়ে একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে সিএনএন।
এতে বলা হয়েছে, বাইডেনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে তাঁর শক্তি ও সাহস নিয়ে। মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্তসহ ব্যাপক প্রভাব পড়বে দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনেও।
শুধু তাই নয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা হলে রাজনৈতিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও মনে করছে সিএনএন।
পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব
সিএনএনের প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ঘটনা চীনকে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুপ্রাণিত করবে।
আর চীন এমনটা করলে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হবে ইউক্রেনে রুশ অভিযানের চেয়ে বড় যুদ্ধ।
ইউক্রেনকে খুশি করতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে পাল্টে দিতে পারে। আর তা বাইডেনের জন্য আরেকটি সংকট তৈরি করবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর প্রভাব
এসবের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ ধাক্কা সামলাতে হবে সবার আগে। কারণ, গণতান্ত্রিক নীতি এবং সংকটে পড়তে পারে মার্কিন অর্থনীতি।
এতে করে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাইডেন ও তার দলের ওপর এর প্রভাব পড়বে। সেটি ঠেকাতে তাই এখন বাইডেনের ধ্যান-জ্ঞান ইউক্রেন সংকট।
রিপাবলিকানরা এরই মধ্যে প্রমাণ করতে চাইছে, সংকট সমালতে পুতিনকে রাজি করাতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।
বাইডেনের জনপ্রিয়তার ওপর প্রভাব
সম্প্রতি সিএনএনের নতুন এক জরিপ বলছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জনপ্রিয়তা কমে ৪১ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এমন সংকটে পড়া প্রেসিডেন্টরা, প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হরেছেন।
আরও পড়ুন: অটোয়ার পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ
তবে পুরোদমে হামলা না করলেও ইউক্রেনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে চাইবেন পুতিন। আর তাঁর এমন পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও বাইডেনের মাথাব্যথার কারণ হয়েই থাকবে।
