মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের মানুষ এখন দিশেহারা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ বলছে, মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্যে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে দেশের বাজারে বেড়েই চলছে নিত্যপণ্যের দাম। চাল, ডাল, তেল, আটা, ময়দাই নয় বাড়ছে মাছ মাংস আর সবজির দামও। তাই সীমিত আয় ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রতিটি দিনই এখন দুর্দিন।
দেশে এমনই যখন অবস্থা তখন আর্ন্তজাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ জানালো, অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও তিন ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। মূল্যস্ফীতি এর অন্যতম।
করোনা পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়ে আইএমএফ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে গড়ে মূল্যস্ফীতি পৌঁছেতে পারে ৫.৯ শতাংশে। যদিও এ সময়ে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬.৬ শতাংশ।
এদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, গেল মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দামে সর্বকালের রেকর্ড হয়েছে। শুধু ফেব্রুয়ারিতেই ভোজ্যতেল এবং দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ২৪.১ শতাংশ। আর গত মাসে খাদ্যপণ্যের বিশ্ব মূল্যসূচক বেড়ে পৌঁছেছে ১৪০.৭ পয়েন্টে।
বছরের ব্যবধানে ভোজ্যতেলের দাম সাড়ে আট শতাংশ বেড়ে রেকর্ড মূল্যে পৌঁছেছে। পাম, সয়াবিন ও সূর্যমূখী- সব তেলের দামই বেড়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকেই সূর্যমুখী তেলের বিশ্ব চাহিদার ৮০ শতাংশ সরবরাহ হয়।
উচ্চ খাদ্যমূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতিও বেড়ে করোনা মহামারি কবলিত বিশ্ব অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।
