নীলফামারীতে রেললাইনের ওপর থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ।
শনিবার (১৯ মার্চ) সকাল আটটার দিকে নীলফামারী-সৈয়দপুর রেলপথের বউ বাজার নামক স্থান থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত লিমন হোসেন (২৮) নীলফামারী জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের মনষাপাড়া গ্রামের বউ বজার এলাকার নূর উদ্দিনের ছেলে বলে জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) শফিউল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকালে গ্রামের কৃষক কফদ্দিন তার কৃষি জমিতে কাজ করতে যাওয়ার সময় বউবাজারের রেল লাইনের উপর লিমনের কাটা মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারকে খবর দেন।
ধারণা করা হচ্ছে গভীর রাত বা ভোরের কোন সময় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান লিমন। পরে খবর পেয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত লিমনের মামা মো. নুরন্নবী বলেন, লিমন ঢাকায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে সেখান থেকে বের করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা থেকে তিন দিন আগে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। তার দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রী রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার রাত আটটার পর বাড়ী থেকে বের হয়ে লিমন আর ফিরে আসেননি। সকালে রেললাইনের উপর তার কাটা মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান।
লিমনের স্ত্রী দুলালী বেগম (২৫) বলেন, দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে আমি শুক্রবার বিকালে জেলা শহরের মাসটার পাড়ায় বাবার বাড়ীতে যাই। পরে সন্ধ্যার দিকে স্বামী আমার বাবার বাড়ি আসে। তাকে রাতে থাকতে বললে বাইরে থেকে ঘুরে আসার কথা বলে আর আসে নি।
সকালে খবর পেয়ে এসে দেখি আমাদের বাড়ির অদূরে রেললাইনের উপর স্বামীর কাটা মরদেহ পড়ে রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) শফিউল ইসলাম বলেন, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সে মানসিক ভারসাম্যহীন। রাত একটা পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি পরিবারের সদস্যরা।
আরও পড়ুন: রোজায় নওগাঁয় প্রায় দুই লাখ পরিবার পাবে টিসিবি পণ্য
শনিবার সকালে এলাকার লোকজন তার মরদেহ রেললাইনের ওপর কাটা পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেয়।
তিনি আরো বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লিমনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ যে, ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর একই স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিন শিশুসহ চারজন নিহত হন।
একাত্তর/এসজে
