যথাযথ তদারকি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মে উল্লাপাড়ার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জল হোসেন।
তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত হবার কথা থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষক স্কুলে সময়মত আসেন না। কোনো কোনো স্কুলে ২/১ জন শিক্ষক উপস্থিত হলেও বিশেষত অনেক নারী শিক্ষকদের স্কুলের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে চুলে উকুন বেছে নিতে দেখা গেছে। আবার কোথাও নারী শিক্ষকরা ছাত্রীদের দিয়ে চুলের বেনি বাঁধেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক না থাকায় হৈ হুল্লোর করে শিশু শিক্ষার্থীরা।
দু’দিন ধরে আকষ্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থার এসব চিত্রের বর্ণনা দেন সাংবাদিকদের কাছে।
শনিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ইউএনও গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, তিনি উল্লাপাড়ায় কয়েকদিন আগে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন। গত ৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ও ৯ এপ্রিল শনিবার তিনি উপজেলার মগড়া চড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রানীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দবিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে নয়টায় কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়েই একজন শিক্ষককেও উপস্থিত পাননি। বেলা ১০টা পর্যন্ত অধিকাংশ স্কুলে বেশির ভাগ শিক্ষক আসেন না।
রানীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখেন, স্কুলের বারান্দায় এক শিক্ষকের চুলের বেনি বেঁধে দিচ্ছেন অন্য একজন নারী। অন্য একটি স্কুলে এক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাথার উকুন বেছে নিচ্ছেন।

ইউএনও আরও জানান, তিনি স্কুলে প্রবেশ করার পর বারান্দায় বসা উল্লিখিত শিক্ষকগণ দ্রুত তাদের অফিস কক্ষে ঢুকে পড়েন।
দবিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কোনো শিক্ষক না থাকায় ইউএনও শ্রেণি কক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের হৈ চৈ থামান এবং শিক্ষকরা না আসা পর্যন্ত পাঠদান করেন।
তিনি বলেন, যেসব স্কুলে অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে উপজেলার পূর্বদেলুয়া এলাকার লোকজন অভিযোগ করে বলেন, পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ কোনো দিন সময়মত স্কুলে আসেন না। বেলা ১০টার পরে দুই একজন স্কুলে এলেও পাশের নদী থেকে মাছ কিনে স্কুলের বারান্দায় বসে ছাত্রীদের নিয়ে সেসব মাছ কাটেন। এমন দৃশ্য অনেকদিন দেখেছেন অভিভাবকরা। এলাকাবাসী শিক্ষকদের মাছ কাটার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ক্লাসে হৃদয় মন্ডলের বক্তব্য রেকর্ড করা পূর্ব পরিকল্পিত!
ইউএনও উজ্জল হোসেন বলেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ এখানে স্কুলগুলো সেভাবে তদারকি করা হয় না। শিক্ষকদের মধ্যেও রয়েছে দায়িত্বহীনতা ও আন্তরিকতার অভাব। যেকোনো মূল্যে সরকারের শিক্ষার মান উন্নয়নের সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে তিনি এখন থেকে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শনে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আল মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
একাত্তর/এসি
