নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুর ইউনিয়নে তাসকিয়া আক্তার জান্নাতকে (৩) গুলি করে হত্যা মামলায় চার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলার প্রধান আসামি মো. রিমনের দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রক্রিয়া চলছে।
রিমান্ডে নেওয়া আসামি হলেন- সুজন, সোহেল উদ্দিন, নাইমুল ইসলাম ও আকবর হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-ডিবি) সাইফুল ইসলাম চার আসামির রিমান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.সবজেল হোসেন আদালতে বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ আসামির সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে।
এরপর আদালত চার আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ডে নেওয়ার আগে মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে র্যাব-১১ এর একটি দল তাসকিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করে।
অপরদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুরে শিশু তাসকিয়া আক্তার জান্নাত হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য মঙ্গলবার মামলাটি বেগমগঞ্জ মডেল থানা থেকে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকাল ৪টার দিকে তাসকিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মালেকার বাপের দোকান যান তার বাবা প্রবাসী আবু জাহের। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় রিমন মহিন, আকবর ও নাঈমের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী মামুনের দোকানে এসে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে তার উপর হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে পাশে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারে লেগে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তারা দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে তাদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইট নিক্ষেপ করলে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাসকিয়া।
পরে তারা বাড়ি যাওয়ার সময় পেছন থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি ছোঁড়ে সন্ত্রাসীরা। এতে তাসকিয়া ও জাহের গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে গুলিবিদ্ধ তাসকিয়া ও আবু জাহেরকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লায় পৌঁছলে মারা যায় তাসকিয়া।
মাটি কাটার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের সঙ্গে কোনোভাবেই সংপৃক্ততা ছিল না মাওলানা আবু জাহের বা তার মেয়ে তাসকিয়ার। তবে মাটি কাটা নিয়ে বৈঠকে ছিলেন এবং তার কারণে সমস্যা সমাধান হয়নি এমন অভিযোগে সন্ত্রাসীদের টার্গেট হয় মাওলানা আবু জাহের, আর সেই টার্গেটের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় তাসকিয়া।
আরও পড়ুন: মোর্শেদ হত্যার সাত আসামি পাঁচ দিনের রিমান্ডে
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাসকিয়া হত্যার ঘটনায় তার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে বাদশা ও রিমনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় এ পর্যন্ত পুলিশ চারজন ও র্যাব পাঁচজন মিলিয়ে মোট ৯ জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় হত্যার তিন-চার দিন আগে কেনা নতুন অস্ত্র যেটি হত্যার সময় ব্যবহৃত হয়।
এদিকে অস্ত্র, ম্যাগাজিন, গুলি উদ্ধার ও হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সু্বর্ণচরের চরজাব্বার থানায় র্যাবের নোয়াখালী ক্যাম্পের উপসহকারী বোরহান উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
