‘মা ঈদে বাড়ি আসমু। কয়েকদিন বাড়িতে থেকে মেয়ের আকিকা দিমু। আমার জন্য দোয়া করবেন। ঈদে বড়ো ভাইয়াও বিদেশ থেকে বাড়ি আসবে। আপনি সময়মতো ওষুধ খাবেন’- কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনে নিহত ফায়ার সার্ভিস কর্মী মনিরুজ্জামান মনির মা শরীফা বেগম।
মনির কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউপির নাইয়ারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত ছানু মিয়ার ছেলে।
রোববার সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া মা শরীফা বেগম নাতনীর জন্য সরকারের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ২০১৬ সালে ফায়ার সার্ভিস কর্মী হিসেবে চাকরি নেন মনিরুজ্জামান মনির। দুই মাস আগে মনির ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে বদলি হয়ে আসেন। সাত বছর চাকরি জীবনে সাহসী ফায়ার কর্মী একাধিকবার পদকও পান তিনি। তিন বছর আগে বিয়ে করেন, সংসার রয়েছে জান্নাতুল মাওয়া নামের দেড় মাসের একটি কন্যা রয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মানুষদের বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে মনিরুজ্জামান মনির সবার ছোট।
এ বিষয়ে নিহতের বোনের জামাই আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মনির সর্বশেষ রাতে তার বোনকে ফোন করে বলে, পানি নেই। পানি না থাকলে তারা মারা যাবে। এরিমধ্যে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন জানায়, ভালো লাগছে না এবং তার জন্য দোয়া করতে।
আরও পড়ুন: ঘরে অন্তঃসত্ত্বা বধূ, এখনও নিখোঁজ পরিবারের একমাত্র অবলম্বন
পরে রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সকালে তার মৃত্যুর খবর পাই।
একাত্তর/এসি
