গত দুই বছর করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম খরচে আম ও টাটকা সবজি পরিবহনে ‘বিশেষ আম ট্রেন’ চালু হচ্ছে আজ (সোমবার)। চলতি বছর দুই দফা চালুর তারিখ ঘোষণার পরও বন্ধ ছিল ট্রেনটি। তবে আজ চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরছে ব্যবসায়ীদের।
রহনপুর স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার মামুন বলেন, সোমবার সকাল ১১টায় রহনপুরে রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি উদ্বোধন করা কথা থাকলেও পরে তা বিকেল তিনটায় উদ্বোধন হবে বলে জানানো হয়। আগের মতই রহনপুর আর চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়বে এক টাকা ৩১ পয়সা।
রাজশাহী রেলওয়ের (পশ্চিম) মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, আম উৎপাদনকারী এলাকা থেকে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ঢাকায় আম পরিবহনের জন্য সোমবার থেকে ট্রেন চালুর সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।
প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ছয়টা এবং রাজশাহী স্টেশন থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ছেড়ে রাত দেড়টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।
কার্গো ট্রেনটি প্রতিদিন আটটি ওয়াগনে সর্বোচ্চ আম বহন করবে। সুতরাং, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামত পণ্য পরিবহন করতে পারেন। রাজশাহী থেকে ঢাকায় এক কেজি আম বহন করতে খরচ পড়বে ১ টাকা ১৭ পয়সা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় ১ টাকা ৩০ পয়সা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩২ লাখ আম গাছ রয়েছে। জেলার প্রধান অর্থকরী এ ফসলের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল জেলার ৮০ ভাগ মানুষ।
এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় তিন লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন। সারাদেশে উৎপাদিত আমের ৩০ ভাগ জোগান দেওয়া হয় এ জেলা থেকেই।
২০২০ সালে আম পরিবহন হয় এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২ কেজি। এতে রাজস্ব আয় হয় দুই লাখ ১১ হাজার ৪৫৮ টাকা।
২০২১ সালে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহন হয় দুই লাখ ৩৬ হাজার ৯৭৩ কেজি, রাজস্ব আয় হয় ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকা।
প্রসঙ্গত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০২০ সালের পাঁচ জুন প্রথম ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রেনটি জেলার রহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও রাজশাহীসহ অন্তত চারটি জেলার আম ও সবজি বহন করে থাকে।
একাত্তর/এসি
