বরগুনার আমতলীতে বেড়িবাঁধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত কয়েক একর জমির জাল কাগজ তৈরি করে শত শত কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি চক্র। তাদের হাত থেকে বাদ যায়নি সরকারি খালও। এমন শিরোনামে একাত্তর টেলিভিশন ও পোর্টালে সংবাদ প্রচারের পর কয়েক দফা তদন্ত শেষে প্রমাণ পেয়ে দলিল জালিয়াতি চক্রের দুই দলিল লেখকসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সরকারের পক্ষে বাদী হয়েছেন বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ফয়জর আলী।
সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে এই তথ্য একাত্তরকে নিশ্চিত করে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, আমতলী উপজেলা শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ১৯৬২-৬৩, ৬৩-৬৪, ৬৬-৬৭ ও ৬৭-৬৮ অর্থবছরে বরগুনার আমতলী উপজেলার ঘটখালীর ২৯ ও চাওড়ার ৩০ নং মৌজায় ১৬.২৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
অধিগ্রহণকৃত এসব জমির মধ্য থেকে ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল চাওড়া মৌজার ২ একর ৮৩ শতাংশ জমি দুই দলিল লেখক জহিরুল ইসলাম বাবুল, পলাশ রাঢ়ী খোকন মৃধা ও পলাশ হাওলাদার চক্র বিক্রি করে দেয়। জমির মালিক সাজেন কথিত যুগল চন্দ্র পাইক ও বিপুল চন্দ্র পাইক।
অধিগ্রহণকৃত এসব জমির মধ্য থেকে ২০১৮ সালের ৫ মে দুই একর ৪৭ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির মালিক সেজে আমতলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জহিরুল ইসলাম বাবুল, রিয়াজ উদ্দিন মৃধা, পলাশ হাওলাদার, বাবুল রাঢ়ী ও শাহজাহান আকন দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা দাম ধরে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে বায়না দলিল করে বিক্রি করে দেয় আমতলী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোতাহার মৃধার ছোটো ভাই জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধা ও ছেলে রিয়াজ মৃধার কাছে।
আরও পড়ুন: বাড়ছে করোনা, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
একই বছরে বাকি জমির মধ্য থেকে চক্রের সদস্য যুগল চন্দ্র পাইক ৯ জুলাই ১১ একর ৭২ শতাংশ ও বিপুল চন্দ্র পাইক ২৫ জুলাই ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমির জাল দলিল করে দখল করে নেয়।
প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর একাত্তরে প্রতিবেদন প্রচারের পর চক্রটির বিরুদ্ধে মামলা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
একাত্তর/আরএ
