এনজিওর কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সাথী আক্তার(২২) নামের এক গৃহবধূ।
রোববার (৩১ জুলাই) বিকেলে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর থানার সেরাজপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘরের দড়জা ভেঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ সন্ধায নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের নাদিয়া নামে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে
মহিপুর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জানান, মৎস্য আড়ত শ্রমিক মোঃপারভেজের স্ত্রী সাথীকে প্রতি সপ্তাহে এনজিও থেকে নেয়া লোনের ১৮'শ টাকা কিস্তি দিতে হয়। রোববার ছিলো কিস্তি পরিশোধের দিন। কিন্তু স্বামীর কাছে টাকা না থাকায় সকালে কিস্তির টাকা দিতে পারেনি সাথী। এ নিয়ে স্বামীর সাথে দুপুরে ঝগড়া হয় তার। ঝগড়ার পর স্বামী তার কর্মস্থলে চলে যায়।
এদিকে এনজিওর কিস্তির টাকা আদায়কারী তার বাসায় আসবে এ লজ্জায় সে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় বলে নিহতের স্বামী পুলিশকে জানায়। এ ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা দায়ের ও মরদেহ পটুয়াখালী ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে কি কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ পরিদর্শক জানান।
সোমবার (১ আগস্ট) সাথী আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় স্বামী মো. পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নিহতের পিতা মনির হাওলাদারের মামলায় রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় নিহত গৃহবধুর খালা শ্বাশুড়ী খাদিজা বেগম ও নানী শ্বাশুড়ী হাসিনা বেগমকে আসামী করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
মহিপুর থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, রোববার সন্ধায় সেরাজপুর গ্রামের বাসা থেকে গৃহবধু সাথী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিকালে সে নিজ ঘরে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্বামী এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে নিহতের মধ্যে মনোমালিণ্যের কথা তাদের জানায়। পরবর্তীতে নিহতের পিতা বাউফল উপজেলার সোমেশ্বর গ্রাম থেকে রাতে এসে পারভেজসহ তিনজনকে আসামী করে আত্মজত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন। সোমবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পারভেজকে আদালতে প্রেরন করা হবে বলে পুলিশ পরিদর্শক জানান।
একাত্তর/এসএ
