গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মারিয়া নামে এক শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন তার সৎ মা। হত্যার পর সোনিয়া নামের ওই নারী পালিয়ে যাবার সময় এলাকাবাসী ও স্বজনরা ধরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে গজালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মারিয়া ওই গ্রামের রহমত মোল্লার মেয়ে।
এলাকাবাসী ও মারিয়ার স্বজনরা জানান, গ্রামের কাঠুয়ার খালের উপর নির্মিত স্লুইসগেট থেকে মারিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন সৎ মা সোনিয়া।
মারিয়াকে খুঁজে না পেয়ে বাবা রহমত মোল্লা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ সোনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটিকে পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে খুলনা থেকে ডুবুরীদের একটি দল এসে মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, পাঁচ মাস আগে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যান শিশু মারিয়ার মা রিনা বেগম। মা মারা যাওয়ার পর মারিয়াসহ তিন ভাইবোনের লালনপালন করতেন বাবা রহমত। পরে গজালিয়া গ্রামের মিজানুর সিকদারের মেয়ে সোনিয়াকে বিয়ে করেন তিনি।
বিয়ের পর থেকে সোনিয়া সৎ সন্তানদের কোনো দেখভাল না করায় এক শিশুসন্তান আত্মীয়র বাড়িতে রাখলে সেখানে মারা যায় ওই শিশু। পরে দুই কন্যা সানজিদা ও মারিয়াকে নিয়ে সোনিয়ার সাথে বসবাস করছিলেন রহমত।
আরও পড়ুন: পৃথক ঘটনায় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার সকালে বাড়ী থেকে মারিয়াকে নিয়ে খালের পানিতে ফেলে দেয় সোনিয়া। বাড়িতে এসে মারিয়াকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন রহমত।
এসময় পুলিশ আসার কথা শুনে দৌড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন সোনিয়া। পরে এলাকাবাসী ও মারিয়ার স্বজনেরা তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আবুল মুনসুর জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করার পর সোনিয়াকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
একাত্তর/এসজে
