আধুনিক দাসত্বের শিকলবন্দি বিশ্বের পাঁচ কোটি মানুষ। দেড়শ’ জনে একজন ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দিতে এবং বিয়েতে বাধ্য হচ্ছে। সোমবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানানো হয়।
বলা হয়, বাধ্যশ্রমে নিয়োজিত ৩৩ লাখ শিশু। বাণিজ্যিক যৌন শোষণের হুমকিতে ৬৩ লাখ মানুষ। বাধ্যশ্রমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে অভিবাসী শ্রমিকরা।
আধুনিক বিশ্বে দাসত্ব! বর্তমান অবাধ স্বাধীনতার যুগে দাসত্বে বন্দি ৫ কোটি মানুষ।
সোমবার আধুনিক বিশ্বের দাসত্ব, বাধ্যশ্রম ও জোরপূর্বক বিয়ের হিসাব শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, ২ কোটি ৬০ লাখ বা বিশ্বব্যাপী এক হাজার মানুষের মধ্যে সাড়ে তিনজন জোরপূর্বক শ্রমের শিকার।
এক কোটি ১৮ লাখ নারী জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য হচ্ছে। যার মধ্যে শিশু ৩৩ লাখ। আগেরবারের তুলনায় দাসত্ব বেড়েছে ২৭ লাখ।
এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে এক কোটি ৫১ লাখ, ইউরোপ-মধ্য এশিয়ায় ৪১ লাখ, আফ্রিকায় ৩৮ লাখ, আমেরিকায় ৩৬ লাখ, আরবে ৯০ হাজার মানুষ, জোরপূর্বক শ্রমের শিকার।
যদিও জনসংখ্যার অনুপাতে আরবে হাজারে ৫ দশমিক তিনজন মানুষ, ইউরোপ-মধ্যে এশিয়ায় চার দশমিক চার, আমেরিকা-এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাড়ে তিন, আফ্রিকায় হাজারে জোরপূর্বক শ্রমের শিকার দুই দশমিক ৯ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয় অভিবাসী শ্রমিকরা অন্যদের তুলনায় জোরপূর্বক শ্রমের উচ্চ ঝুঁকিতে। ৬৩ লাখ মানুষ যেকোনো সময় জোরপূর্বক বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হতে পারে।
২০২১ সালে জোরপূর্বক বিয়ের হুমকিতে ছিলো ২ কোটি ২২ লাখ মানুষ। আগের তুলনায় বেড়েছে ৬৬ লাখ।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এক কোটি ৪২ লাখ, আফ্রিকা, ইউরোপ-মধ্য এশিয়ায় জোরপূর্বক বিয়ের সংখ্যা ছিলো ৩২ ও ২৩ লাখ।
আরও পড়ুন: ৮৬ বছর পর ক্যাঙ্গারুর হামলায় মানুষের মৃত্যু
জনসংখ্যার অনুপাতে আরবে চার দশমিক আট, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ হার হাজারে তিন দশমিক তিন। যার মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ নারী ও মেয়ে।
নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে জোরপূর্বক বিয়ের হার ৫ জনে একজন। উচ্চ ও মধ্যম আয়ের দেশের ২৬ শতাংশ বিয়েই জোরপূর্বক।
একাত্তর/আরএ
