পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা দেওয়া শর্তে জামিন পেয়েছেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। তাকে তার পার্সপোটও জমা দিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা মামলায় প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ এ প্রতিবেদকের জামিন আবেদন শুনানি হয়েছিলো বৃহস্পতিবার (২০ মে)। নথিপত্র রাখা হয়েছিল পর্যালোচনার জন্য।
রোববার (২৩ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। ২০ মে ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লা ভার্চুয়াল কোর্টে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে জানানো হয়, জামিন আদেশ দেওয়া হবে রোববার।
রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুরের পর রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক বাকী বিল্লাহ বলেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম অনুষঙ্গ। গণমাধ্যমের কারণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল আচরণ করে থাকে। কোর্ট ও গণমাধ্যম একে অপরের বাধা হিসেবে কাজ নয়, পরিপূরক হয়ে কাজ করে।
রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি জামিন শুনানির পর তাৎক্ষণাত সাংবাদিকদের বলেন, “আজ তারা বলেছেন (রাষ্ট্রপক্ষ) আমরা ডকুমেন্ট দিয়েছি কিন্তু কি ধরনের ডকুমেন্ট দিয়েছেন সে সম্পর্কে আমরা এখনো জ্ঞাত নই। আমাদের কাছে আজ প্রধান ছিলো রোজিনার জামিন। আমরা এই মামলার ন্যায় বিচারের স্বার্থে যা করণীয় তা করবো।”
তিনি আরও বলেন, “আজ কোনো ধরনের আইনি বাঁধা না থাকে তাহলে আশা করি আজই তিনি বেরিয়ে আসবেন। আদালতের আদেশ কারাগারে যাওয়ার পর কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে, সে সময় যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে তাহলে অবশ্যই তিনি (রোজিনা ইসলাম) দ্বিপ্রহরে বা সূর্য অস্তের পূর্বেই জামিনে বেরিয়ে আসবেন।”
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি আবদুল্লাহ আবু বলেন, রোজিনা ইসলামের মামলাটি স্পর্শকাতর হলেও আমরা তার জামিনের আবেদন বিবেচনা করার জন্য বলেছি। তবে আমরা বলেছি, পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। আসামী পক্ষ তাতে রাজি হয়েছে।
এর আগে ভার্চুয়াল শুনানি হওয়ায় বৃহস্পতিবার রোজিনাকে আদালতে আনা হয়নি। তাকে রাখা হয় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।
রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সোমবার (১৭ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার কথা বলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা করা হয়। মামলার বাদী হন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী।
আরও পড়ুন: রোজিনাকে সচিবালয়ে নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশিত
পরে মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। সেদিন জামিন আবেদনের ওপর আংশিক শুনানি হয়েছিল। তবে আদালত রিমান্ডে না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে বুধবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রোজিনা ইসলাম ন্যায় বিচার পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তবে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ দুজনই রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নথি চুরির যে অভিযোগ এনেছে সেটিই পুনরুল্লেখ করেছেন।
রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার বিকেল থেকেই সাংবাদিকরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। বুধবার ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে, সেগুন বাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে ও কারওয়ান বাজারে সাংবাদিকদের নানা সংগঠন রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেন।
ঢাকার বাইরে সারাদেশে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
ওদিকে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ দেশী-বিদেশ নানা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
একাত্তর/আরএ
