দেশীয় প্রযুক্তিতে মেরামত করে সচল করা একসেট ডেমু ট্রেন অবশেষে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করেছে। রোববার (৯ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ছয়টায় ডেমু ট্রেনটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর জংশন স্টেশন থেকে যাত্রী নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।
এর আগে একই দিন দুপুর একটার দিকে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ডেমু ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, প্রতিদিন ডেমু ট্রেনটি পার্বতীপুর থেকে বিকেল পাঁচটা ১৫ মিনিটে ছাড়বে, রংপুর পৌঁছাবে সন্ধ্যা ছয়টা ১০ মিনিটে। আবার রংপুর থেকে সন্ধ্যা ছয়টা ২০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা সাতটা ২০ মিনিটে পার্বতীপুরে ফিরে আসবে। যাত্রী নিয়ে চলাচল সন্তোষজনক হলে পরে অন্য অচল ডেমুগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা (ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট) একসেট ডেমু ট্রেন দেশীয় প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে পার্বতীপুর ডিজেল ওয়ার্কসপে (ডিজেলসেট) মেরামত করে সচল করা হয়।
কয়েক দফা সফল ট্রায়ালরান শেষে ডেমু ট্রেনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করা হলো। দেশীয় উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে ডেমু ট্রেনটি সচল করে তোলার মূল কারিগর হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ও আনবিক শক্তি কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন- প্রকৌশলী আজিম বিশ্বাস ও প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম।
২০১৩ সালে ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে ২০ সেট (দুই দিকে ইঞ্জিন ও মাঝখানে একটি কোচ নিয়ে একসেট) ডেমু ট্রেন আমদানি করা হয়।
আরও পড়ুন: আট দিন পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু
চীনের তানংশান ইন্টারন্যাশনাল এই ডেমু ট্রেনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক ট্রেনগুলো এক ধরনের বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে পরিচালিত। একটি ডেমুতে ৪০টি মডিউল রয়েছে। ডেমুর মডিউল বিকল হলে নতুন মডিউলের সঙ্গে সফটওয়্যার সেটআপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতো।
বাংলাদেশ রেলওয়েরতে ডেমু চালানোর মতো দক্ষ চালক না থাকা, সঠিকভাবে অপারেট করতে না পারা, স্পেয়ার না রাখায় এবং স্বল্প দূরত্বের স্থলে দীর্ঘ পথে চালানোয় সাত বছরের মধ্যে ডেমুগুলো একের পর এক অচল হয়ে পড়ে।
একাত্তর/এসি
