মোংলায় এক বরফকল শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় মিল মালিক ও অন্যান্যদের এলোমেলো বক্তব্য নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আবার কেউ বলছেন মোটরে লুঙ্গি পেঁচিয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই শ্রমিকের।
বুধবার (১২ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে বরফকলে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
জানা যায়, নিহত শ্রমিক সোলায়মান শেখ (১৭) বাজিকরখন্ড এলাকার দিনমজুর সেলিম শেখের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম শেখ জানান, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজিকরখন্ড এলাকার আয়ান বরফকলে প্রায় তিন মাস ধরে শ্রমিক হিসেবে চাকুরী করে আসছিলেন সোলায়মান।
বরফকল মালিক অপু হাওলাদার জানা, রাত আটটার দিকে তিনি বরফকলের মোটর চালু করলে তাতে লুঙ্গি পেঁচিয়ে যায় সোলায়মানের। এরপর তিনি দ্রুত মোটর বন্ধ করে দিয়ে তার কাছে যেতে যেতেই জ্ঞান হারান তিনি। মোটরে লুঙ্গি পেঁচিয়ে গেলেও তার শরীরের কোথাও তিনি কোন আঘাত পাননি বলেও জানান অপু।
পরে স্থানীয়রা ওই বরফকল থেকে তাকে উদ্ধার করে সাড়ে আটটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান জানান, রাত সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালে এক বরফকল শ্রমিকের মরদেহ নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। হাসপাতালে নিয়ে আসার ২০-২৫ মিনিট আগেই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তার। তবে মরদেহের সাথে যারা আসেন তাদের বক্তব্য এলোমেলো হওয়াতে এবং শরীরের কোথাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বা মটরে লুঙ্গি পেঁচিয়ে যাওয়ার মত ঘটনার কোন আঘাত ও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই সন্দেহের বশে পুলিশে খবর দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ৬০০ অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
মোংলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ হাদীউজ্জামান খাঁন জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। নিহতের সারা শরীরে কোথাও কোনো আঘাত বা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কোনো চিহ্ন নেই। ফলে মৃত্যুরও কোন সুস্পষ্ট ক্লু পাওয়া যায়নি। তাই মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একাত্তর/জো
