রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সত্যি সত্যি পারমাণবিক হামলা চালালে,
বিশ্ব কি আগাম কোনো সতর্কবার্তা পাবে? পেলেও সেই বার্তা কতোটুকু রক্ষা করবে লক্ষ্যবস্তুকে।
অভিজ্ঞ পশ্চিমা সূত্রগুলো বলছে, স্যাটেলাইটসহ অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্ভবত সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। তবে সব কিছু নির্ভর করবে রাশিয়া কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে তার ওপর।
২০১০ সালে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হয়েছিল ঐতিহাসিক ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তি। এর আওতায় দুই দেশের দূরপাল্লার কৌশলগত অস্ত্রাগারগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
চুক্তি অনুসারে, উভয়পক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র, বোমারু বিমান ও সাবমেরিন মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি ওয়ারহেড মোতায়েন করতে পারে।
সমস্যা হচ্ছে, এর মধ্যে বহু ওয়ারহেড উচ্চমাত্রায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই সেগুলো নিক্ষেপ করা যেতে পারে।
স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড রাডারগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পরপরই তা শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারে। তবে কম উচ্চতায় উড়ন্ত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন।
ইউক্রেন যুদ্ধে এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা কম। কারণ, এর ফলে যুদ্ধে ন্যাটো জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যাবে।

আপাতত রাশিয়ার গ্রোম পারমাণবিক মহড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ন্যাটো। এ ধরনের মহড়ায় অতীতে সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার জন্য আরেকটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে, দু’হাজার ‘ট্যাকটিক্যাল’ পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল বহর থেকে একটি বা দুটি ব্যবহার করে সীমিত হামলা চালানো।
এসব অস্ত্রে সাধারণত বিস্ফোরক ও পাল্লা কম হয়ে থাকে। ইউরোপেও ন্যাটোর এই ধরনের প্রায় একশ’টি অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে।
রাশিয়ার ট্যাকটিক্যাল ওয়ারহেডগুলো কয়েক ডজন স্টোরেজ সাইটে রাখা হয়েছে। ফলে সেগুলো ব্যবহারের প্রস্তুতি শনাক্তযোগ্য হওয়া উচিত।
এক্ষেত্রে মূল বিষয় হবে, স্যাটেলাইট ও অন্যান্য উপায়ে স্টোরেজ সাইট থেকে ওয়ারহেড পরিবহনের ওপর নজর রাখা।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধন
ওয়ারহেডগুলো ট্রেন বা লরির মাধ্যমে পরিবহন করা হবে। সাথে থাকবে ফায়ার-ইঞ্জিন ও বিশেষ পুনরুদ্ধার যান। এগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে রাশিয়ার এলিট ইউনিটের সদস্যরা।
এছাড়া, যে সামরিক ইউনিট অস্ত্রগুলো ব্যবহার করবে, তারাও অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখাতে পারে। বেড়ে যেতে পারে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ।
পশ্চিমা দেশগুলো এসব লক্ষণ বেশ ভালোভাবেই জানে। এরপরও বিশ্লেষকরা বলছেন, একবার মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র-লঞ্চারে বসানো হয়ে গেলে এবং জঙ্গলে লুকিয়ে ফেললে ‘ট্যাকটিক্যাল’ পারমাণবিক অস্ত্র শনাক্ত বা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।
একাত্তর/আরবিএস
