আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সাড়ে ৪০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক আশ্বাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ। বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
গেলো জুলাইয়ে ঋণ নেয়ার আগ্রহ জানিয়ে আইএমএফকে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এক্সেনডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি ইসিএফসহ তিন ধরনের স্কিম থেকে সাড়ে ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ চাওয়া হয়।
এ বিষয়ে আলোচনা করতে বুধবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকায় আসে আইএমএফের দশ সদস্যের একটি দল। প্রথম দিনে অর্থ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।
আর সফরের দ্বিতীয় দিন বৈঠক ছিলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে। দিনব্যাপী আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল ও তার টিম। উঠে আসে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যাংক খাতের সুশাসন প্রসঙ্গ, সুদের হার, সরকারি বন্ড ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় ব্যবস্থাসহ নানা বিষয়।
জিএম আবুল কালাম আজাদ জানান, বৈঠকে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে দুপক্ষই। আইএমএফ যেমন ঋণ দিতে আগ্রহী, তেমনি আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কারে আগ্রহী বাংলাদেশ ব্যাংকও। দুই সপ্তাহের মধ্যে ঋণ দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।
১৫ দিনের এ সফর শেষ হবে আগামী ৯ নভেম্বর। এর মাঝে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আবারও কয়েক দফায় বসবে তারা। সফরের শেষ দিনেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে সংস্থার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন গভর্নর রউফ তালুক। বৈঠক শেষে ঋণ দেয়ার ব্যাপারে আইএমএফের ইতিবাচক মনোভাব উঠে আসে সেখানেও।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, রিজার্ভের হিসাব বেশি দেখানো হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, আগে থেকে যেভাবে হিসাব হয়েছে, সেই পদ্ধতিতেই রিজার্ভের গ্রস বা মোট হিসাবটাই প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইভ্যালির রাসেল-শামীমার সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ হচ্ছে ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব মানলে এ থেকে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বাদ দিলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের মত।
এছাড়া ২০১৬ সালে হ্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থের মধ্যে ফেরত না আসা অংশটুকু এখনও রিজার্ভে দেখাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
একাত্তর/এসজে
