বাগেরহাটে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এক সাক্ষীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর উপজেলার বড়বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ওই সাক্ষীর উপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে এবং মারধর করে তাকে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়।
ওই রাতে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা রাজিয়া নাসের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, নিহত শামীম হাওলাদার (৩৬) বাগেরহাট সদর উপজেলার বড়বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে। আটক সাইদুর হাওলাদার (৫০) একই গ্রামের সোলেম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিহত শামীম হাওলাদারের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী ফিরোজ হাওলাদারের পরিবারের ৪২ বছর ধরে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জের ধরে হামলা, মারামারি, মামলা-পাল্টা মামলা এবং এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রায় ১৮ বছর আগে নিহত শামীমের বাবা ইউসুফ হাওলাদারের চোখ উপড়ে ফেলে প্রতিপক্ষরা।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা রাজিয়া নাসের জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. জব্বার ফারুকী জানান, শামীম হাওলাদারের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল এবং তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে আনার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনায় তার মৃত্যু হয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে শামীম হাওলাদারকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাইদুর রহমান নামে একজনকে আটক করে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা যুক্ত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: প্রেমের ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজি, হোটেল মালিক ও ছেলেসহ আটক তিন
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম জানান, শামীম হাওলাদার হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে বড়বাঁশবাড়িয়া গ্রামে শামীমের এক মামাতো বোন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামির মধ্যে চারজন কারাগারে রয়েছেন। ওই মামলার সাক্ষী ছিলেন শামীম।
একাত্তর/এসজে
