বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রিসাইক্লিং শিল্পে বিনিয়োগসহ দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে অধিকতর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড ডমিনিক জনসন।
শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুদৃঢ় ভিত্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে স্থাপিত হয়েছিল। যা বিগত ৫০ বছরে নানাভাবে বিকশিত হয়েছে।
এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে যুক্তরাজ্য থেকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহবান জানান।
সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাজ্য। দেশটি বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাময় রিসাইক্লিং শিল্পে বিনিয়োগে ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমঘন ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়তাকারী এই শিল্পে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ অনেক অগ্রসর হয়েছে। স্বনামধন্য ও বৃহৎ বৈশ্বিক ক্রেতাগোষ্ঠী তাদের ক্রয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পুন:প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফাইবার হতে প্রস্তুত করা পোশাকের মাধ্যমে পূরণ করা শুরু করেছে। পরিবেশ বান্ধব ও সার্কুলার ইকোনমির জন্য সহায়ক হওয়ায় এর পরিমাণ আরও বাড়বে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করে যেহেতু বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জমি দিতে পারছে না, সেক্ষেত্রে পানিতে ভাসমান টেকনলজির মাধ্যমে সোলার পাওয়ার উৎপাদনে যুক্তরাজ্য বিনিয়োগ করতে পারে। কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিভিত্তিক অন্য শিল্পেও যুক্তরাজ্য বিনিয়োগ করতে পারে।
বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন বা বিদ্যমান কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে বলে জনসনকে অবহিত করেন সালমান।
এসময় লর্ড ডমিনিক জনসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প-বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক ও সম্প্রসারিত হতে পারে। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের রপ্তানি সহায়তা ঋণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ এ মন্ত্রী এয়ারবাস থেকে কার্গো বিমান ক্রয়সহ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত উন্নয়নে এয়ারবাস-এর আরও সম্পৃক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করলে উপদেষ্টা সালমান রহমান জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে এয়ারবাস-এর উদ্যোগে ঢাকায় আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সামিট যাতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। এই সম্মেলনে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কাছে এয়ারবাস তাদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে পারে।
মন্ত্রী জনসন যুক্তরাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের বিষয়ে কিছু জটিলতার কথা উল্লেখ করলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে আরও বেশি করে যুক্তরাজ্যে অধ্যয়ন ভিসা পেতে পারে সে ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের সহায়তা প্রত্যাশা করেন সালমান।

এর আগে আট ডিসেম্বর সালমান এফ রহমান বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ট্রেড এনভয় ব্রিটিশ সংসদ সদস্য রুশনারা আলির সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকিমিশন, লন্ডনে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকেও তিনি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশের রিসাইক্লিং এবং কৃষি ও কৃষি প্রক্রিাজাতকরণ শিল্পে অধিক হারে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
রুশানারা আলি এমপি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ব্যবসা ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন। ওই বৈঠকেও হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম অংশগ্রহণ করেন।
একাত্তর/এসি
