পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পদাতিক ছবির মৃণাল সেন হয়ে আসছেন বাংলাদেশের নামী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ছবির প্রথম লুক প্রকাশ্যে আসেতই চারিদিকে এখন আলোচনা আর আড্ডায় চায়ের কাপে ঝড় তুলছে মৃণাল রূপে চঞ্চল।
পদাতিক সিনেমার মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয়ের বিষয়ে চঞ্চল ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনয় করাটা একটা দুঃসাহসিক ব্যাপার। এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্য সাহস থাকতে হয়।
তিনি বলেন, সেই সাহসটি আমার আছে কিনা এবং সে সঙ্গে যোগ্যতা আমার আছে কিনা সেটা বলার আগে একজন তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে বিষয়টা চিন্তা করলে আমার তো অবিশ্বাস্য লাগছে। তবুও দুঃসাহস নিয়ে, কাজের প্রতি একটা লোভ, স্বপ্ন থাকার কারণে এই কাজটি করা।
চঞ্চল আরও বলেন, সৃজিত মুখোপাধ্য়ায়ের যতগুলো কাজ দেখেছি তাতে তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিলো। মৃণাল সেন চলচ্চিত্র জগতের একজন দিকপাল। শ্রেষ্ঠতম একজন পরিচালকের চরিত্রে অভিনয় করা মানে একটা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা। ভাল-মন্দ এটা পরের বিষয়।
চঞ্চল চৌধুরী জানান, সৃজিতের সঙ্গে আরও আগে কাজ করার কথা ছিল। করোনাকালে একটা কাজ নিয়ে কথাও এগিয়ে ছিলো। সৃজিতের ওয়েব সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’তে আমার কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনাকালে ছবিটির শুটিং বাংলাদেশে না হওয়ায় আর হলো না। শেষমেশ পদাতিক ছবির হাত ধরে সৃজিতের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব হলো।
চঞ্চল আরও জানান, কলকাতার দর্শকরা তার কাজ দেখতে চান। কলকাতার মানুষজন আমাকে ভালবাসেন। সেখানকার কলাকুশলী, শিল্পীরা চাইছেন আমি কলকাতায় কাজ করি। এটা আমার জন্য খুবই সৌভাগ্যের ব্যাপার। সেটা সৃজিতের হাত ধরেই শুরু হচ্ছে।

কীভাবে ছবির মৃণাল সেন হয়ে উঠছেন চঞ্চল, এমন প্রশ্নের উত্তরে চঞ্চল বলেন, আমাকে কিছু বই দেয়া হয়েছে, কিছু ভিডিও দেয়া হয়েছে। সেটা তো একটা ব্যাপার। কিন্তু মানুষটার ভেতরটা, মানুষটার দৃঢ়তা, মানুষটার অন্তরটা তো দেখা যায় না। এ বিষয়গুলো অনুভব করতে হয়।
তার ছবির বক্তব্য, ছবি তৈরির উদ্দেশ্য সবগুলো বুঝে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কঠিন কাজ, সময়সাপেক্ষ কাজ। আমার এখানেই একটু অতৃপ্তি রয়েছে, আরও বেশি সময় ধরে ওকে বুঝতে হতো। আরও বেশি সময় দরকার ছিল। আমি আসলে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছি- বলেন চঞ্চল।
আরও পড়ুন: এবার মৃনাল সেন হয়ে আসছেন চঞ্চল চৌধুরী
মৃণাল সেনের কোন কাজটি আপনার প্রিয়, এমন প্রশ্নের উত্তরে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, আমি ঠিক এভাবে দেখি না। একজন শিল্পীর সারাজীবনের যে কর্ম তার নানা ভাগ থাকে। শুরুর দিকে তিনি কী রকম কাজ করেছেন। পরিণত বয়সে এসে তিনি কেমন কাজ করেছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, সব শিল্পীরই এ রকম ভাগ থাকে। তবে দর্শন যদি ঠিক থাকে, তাহলে উনি একটা জায়গায় গিয়ে জার্নিটা শেষ করেন। মৃণাল সেন যা জায়গা থেকে জার্নিটা শুরু করেছিলেন, সেই একই রকম কাজ নিয়েই জার্নিটা শেষ করতে পেরেছেন।
সবশেষে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, এ রকম সৌভাগ্য সবার হয় না। তার কাজ ধারাবাহিক ভাবে দেখলে সেটা বোঝা যায়। মৃণাল সেনের কাজে দর্শনটাই আমার প্রিয়।
একাত্তর/এসি
