ঢাকার গুলশান-১ নম্বরে একটি দোকান থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো নিয়ে ঝামেলার জেরে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছেন। এতে এক ভ্যানচালকসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় গুলি চালানো মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাসহ তিনজন আটক করেছে পুলিশ।
তারা হলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াহিদ মিন্টু (৪৬), মোঃ আরিফ হোসেন (২৪), আরিফের ভগ্নিপতি মনির আহমেদ (৩৫)। জব্দ করা হয়েছে মিন্টুর লাইসেন্স করা পিস্তলসহ ১৬ রাউন্ড গুলি, তিনটি গুলির খোসা ও চারটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মাসুদুর রহমান মনির জানিয়েছিলেন, রোববার (১৫ জানুয়ারি) গুলশান শপিং সেন্টারের নিচ তলার একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, আরিফ হোসেন ওমানপ্রবাসী। তিনি গুলশানের আলফা জেনারেল স্টোরে এসে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে একটি নম্বরে কয়েক ধাপে মোট ৭৫ হাজার টাকা পাঠান। টাকা নগদ পরিশোধ করতে না পারায় দোকানি হাবিবুর রহমান তাকে দোকানে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে আরিফকে ছাড়িয়ে নিতে তার ভগ্নিপতি মনির হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল ওয়াহিদ মিন্টু গুলশান-১-এ ঘটনাস্থলের পাশের একটি কফির দোকানে আসেন। একপর্যায়ে তাদের দুজনকেও আটকাতে যান দোকানি হাবিবুর ও তার পরিচিত দোকানিরা। এসময় নিজের পিস্তল থেকে গুলি করেন মিন্টু। এতে রাস্তার একজন পথচারী ও একজন ভ্যানচালক গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ পথচারী আমিনুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর ভ্যানচালক আবদুর রহিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে স্টাফ ও যাত্রীর কাছ থেকে দুই কেজি স্বর্ণ উদ্ধার
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল ওয়াহিদ ঘটনাস্থলে এসে আরিফকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দোকানিরা তাকে বাধা দিলে তিনি পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি করেন। এসময় কয়েকজন দোকানিকে লক্ষ্য করে গুলি করতে যান তিনি। একপর্যায়ে দোকানিরা তাকে ধাওয়া করেন। এসময় তার ছোড়া গুলিতে দুজন আহত হন।
একাত্তর/এসি
