পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে একটি মসজিদে সোমবারের আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলআরএইচ) মুখপাত্র মোহাম্মদ অসিমের বরাতে মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন।
মোহাম্মদ অসিম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চিকিৎসা কেন্দ্রে ১০০টি মৃতদেহ আনা হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমানে ৫৩ জন আহত নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে যাদের মধ্যে সাত জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের অধিকাংশই আশঙ্কামুক্ত জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) পেশোয়ারের রেড জোন এলাকায় ওই মসজিদে বিপুল সংখ্যক মানুষ নামাজের জন্য জড়ো হওয়ার পর সেখানে বিস্ফোরণটি ঘটে।
ওইদিন হামলার পরপরই ৫৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে মসজিদের দেয়াল এবং ভেতরে ছাদের কিছু অংশ উড়ে যায়।
এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
পেশোয়ার বিভাগের কমিশনার রিয়াজ মেহসুদ জানান, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বিস্ফোরণস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শেষ হয়েছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার পর রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তাদের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, সন্ত্রাসীরা জনসাধারণের মধ্যে ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়াতে চায় এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের কষ্টার্জিত অর্জনকে ফিরিয়ে দিতে চায়। সকল রাজনৈতিক শক্তির প্রতি আমার বার্তা, পাকিস্তান বিরোধী উপাদানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন। আমরা আমাদের রাজনৈতিক লড়াই পরে লড়তে পারব।
অন্যদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও টুইটারে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
এক টুইটবার্তায় তিনি বলেছেন, পেশোয়ারের পুলিশ লাইন মসজিদে নামাজের সময় সন্ত্রাসী আত্মঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলায় আমাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের উন্নতি করা এবং আমাদের পুলিশ বাহিনীকে যথাযথভাবে সজ্জিত করা অপরিহার্য।
সবশেষ মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ লাইনে একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কেপি মহাপরিদর্শক (আইজি) মাউজ্জাম জাহ আনসারি বলেছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন হল কিভাবে একজন "আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী" পুলিশ লাইনে প্রবেশ করতে এবং মসজিদে যেতে সক্ষম হয়েছিল?
উত্তরে তিনি জানান, পুলিশ লাইনে কোনো "কেন্দ্রীয় কমান্ড" ছিল না এবং গেটে চেকিং ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ ছিল।
একাত্তর/আরবিএস
