বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৫৫ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে ভিড়েছে।
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমভি এপিজে কাইস নামে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজটি মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়ে বয়ায় নোঙ্গর করে।
এমভি এপিজে কাইস জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক খোন্দকার রিয়াজুল ইসলাম জানান, কয়লা নিয়ে জাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার মাওরা পাত্তাই বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। নোঙ্গরের পর বিকাল তিনটার দিকে জাহাজ থেকে কয়লা খালাস কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, কার্গো জাহাজে কয়লা খালাস চলছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে কয়লা নিয়ে কার্গো জাহাজ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে ভিড়বে। এছাড়া ২৩ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫৫ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে আরও একটি জাহাজ মোংলা বন্দরের ভেড়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, কয়লা সঙ্কটের কারণে গত ১৪ জানুয়ারি রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে আট ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩৩ হাজার মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে জাহাজ মোংলা বন্দরের হারাবারিয়ায় নোঙ্গর করে। এরপর কার্গো জাহাজে করে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে আনা হয়। একমাস বন্ধ থাকার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যে রাত থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি প্রতিদিন চালিয়ে রাখতে পাঁচ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন।
এদিকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: পরিবেশ রক্ষা করেই উৎপাদনে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
উল্লেখ, বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিনিয়োগে ২০১০ সালে সুন্দরবনের অদূরে বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের এনটিপিসি লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) গঠিত হয়। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ মালিকানাধীন রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়।
একাত্তর/এসি
