একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর শামীম শিকদার মারা গেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক অধ্যাপক।
ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২১ মার্চ) বিকালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন শামীম সিকদারের ভাস্কর্যগুলোর কিউরেটর মো. ইমরান হোসেন।
তিনি বলেন, নিজের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করতে কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছিলেন শামীম সিকদার। দেশে ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
সিরাজ সিকদারের বোন শামীম শিকদারের বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তারা দু’জনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী।
শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বুধবার বেলা ১১টায় শামীম সিকদারের লাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে জানান ইমরান হোসেন।
তিনি বলেন, চারুকলা অনুষদে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ শহীদ মিনার কিংবা তার যে কোনো একটি ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। তার পরিবারের সদস্য ও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে দাফনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহাম্মদপুরে শামীম সিকদারের বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফনের একটি পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ইমরান।
শামীম সিকদার ১৯৫২ সালের ২২ অক্টোবর বগুড়া জেলার মহাস্থান গড়ের চিংগাশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি বুলবুল ললিত কলা একাডেমীতে ভর্তি হন। পরে ১৯৭৬ সালে তিনি লন্ডনের স্যার জন কাস স্কুলে চলে যান।
১৯৭৪ সালে এই ভাস্কর শিল্পী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থিত ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’ শিরোনামের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। ভাস্কর্যটির মূল বেদিতে আছে একাত্তরের বিভিন্ন ঘটনার চিত্র।
আরও পড়ুন: 'নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে বিএনপিকে জবাব দেবে জনগণ'
১৯৮৮ সালের ২৫ মার্চ এটি স্থাপন করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন ১৯৯৪ সালে যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে অবস্থিত। শামীম শিকদার ২০০০ সালে একুশে পদক অর্জন করেন।
শামীম শিকদার চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভাস্কর্য বিভাগের একজন অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ললিত কলা অনুষদের একজন ফ্যাকাল্টি মেম্বার ছিলেন।
একাত্তর/আরএ
