এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া।
বৃহস্পতিবারের এ উৎক্ষেপণের পর উত্তর জাপানে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার আদেশ জারি করা হয়। এটিকে একটি ‘অলৌকিক সাফল্য’ বলে আখ্যায়িত করে এর প্রশংসা করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
সলিড ফুয়েল বা কঠিন-জ্বালানি ক্ষেপণাস্ত্র তরল-জ্বালানির চেয়ে দ্রুত নিক্ষেপ করা যেতে পারে, যার ফলে তাদের আটকানো কঠিন। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এগুলোর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বরাবরই বলে এসেছে যে উত্তরের একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী সলিড-ফুয়েল আইসিবিএম তৈরি করতে আরও সময় লাগবে।
বছরের পর বছর কঠিন-জ্বালানি স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়া একটি কঠিন-জ্বালানি আইসিবিএম পরীক্ষা করেছে। এখন পর্যন্ত পরীক্ষা চালানো সবগুলো আইসিবিএম-ই তরল প্রোপেলেন্ট দ্বারা চালিত ছিল, যা ছোঁড়ার আগে সরাসরি জ্বালানি দিতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।
এটিকে পিয়ংইয়ং-এর অস্ত্র কর্মসূচিতে একটি অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কঠিন-জ্বালানির আইসিবিএম প্রস্তুত অবস্থায়ই থাকে এবং তাই উত্তর কোরিয়া অনেক কম সতর্কতার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করতে সক্ষম হবে।
শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রযুক্তিটি নতুন নয়। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সলিড-ফুয়েল আইসিবিএম সিস্টেম বিকাশের একটি ‘মাঝারি পদক্ষেপ" হিসাবে বর্ণনা করেছে তারা।
জানা গেছে, পরীক্ষাটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘চরম ভয় এবং উদ্বেগে ভোগাবে’ বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তিনি তার মেয়ে, স্ত্রী এবং বোনের সাথে পরীক্ষাটি তদারকি করেন।
তিনি আরও বলেন, হোয়াসং-১৮ নামে পরিচিত পরীক্ষামূলক অস্ত্রটি উত্তরের আগ্রাসী সামরিক কৌশলকে সমর্থন করে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁসকারী গ্রেপ্তার
বৃহস্পতিবার সকালের উৎক্ষেপণের লক্ষ্য ছিল ‘হাই-থ্রাস্ট সলিড-প্রপেলেন্ট মাল্টিস্টেজ মোটর, স্টেজ সেপারেশন টেকনোলজি এবং বিভিন্ন কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা’, রাজ্যের কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি শুক্রবার তার প্রতিবেদনে বলেছে।
উৎক্ষেপণটি উত্তর জাপানে বিভ্রান্তির জন্ম দেয়, যেখানে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়। জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের স্কুলগুলো তাদের শুরুর সময় বিলম্বিত করে এবং কিছু ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করা হয়।
একাত্তর/এসজে
