নর্ডস্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণের কিছু আগে তার কাছাকাছি এলাকায় ডুবো অপারেশন চালাতে সক্ষম রাশিয়ান জাহাজ অবস্থান করছিলো বলে একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ নৌবাহিনীর জাহাজের বাধাপ্রাপ্ত যোগাযোগ সিগন্যাল ব্যবহার করে জাহাজগুলোর অবস্থান সনাক্ত করা হয়।
গত সেপ্টেম্বরে জলের নিচে বিস্ফোরণের ফলে নর্ডস্ট্রিম পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি পাইপলাইনটি এর ফলে অকেজো হয়ে পড়ে।
তবে ওই বিস্ফোরণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
বিস্ফোরণস্থলের কাছাকাছি দেশগুলোতে এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত তারা শুধু বলেছে, বিস্ফোরণগুলো কোনও ধরণের দুর্ঘটনার পরিবর্তে নাশকতার ফলাফল ছিল বলে বিশ্বাস তাদের।
চারটি নর্ডিক পাবলিক ব্রডকাস্টার এবং ইংরেজি ভাষার পডকাস্ট কোল্ড ফ্রন্ট তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বিস্ফোরণের আগে রুশ জাহাজের সন্দেহজনক চলাচল এই ঘটনায় রাশিয়ার সম্পৃক্ততার দিকে নির্দেশ করে।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা কমান্ড একটি পৃথক প্রতিবেদন নিশ্চিত করেছে যে, নিমফেন নামক একটি ডেনিশ টহল নৌকা বিস্ফোরণের কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় একটি রাশিয়ান সাবমেরিন-উদ্ধার জাহাজের ২৬টি ছবি তুলেছিল।
ওয়েবসাইটটি বলছে, এসএস-৭৫০ কালিনিনগ্রাদ থেকে যাত্রা করেছিল এবং ২২ সেপ্টেম্বর তারিখে বোর্নহোম দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
ডেনমার্কের ডিআর, নরওয়ের এনআরকে, সুইডেনের এসভিটি এবং ফিনল্যান্ডের ইয়েলের তদন্ত গত বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাহাজটির গতিবিধি এবং কর্মের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যাকে তারা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছে।
জাহাজগুলোর মধ্যে রাশিয়ান নৌ গবেষণা জাহাজ সিবিরিয়াকভ, টাগবোট এসবি-১২৩ এবং রাশিয়ান নৌবহরের তৃতীয় একটি জাহাজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মিডিয়া আউটলেটগুলো নাম দিয়ে এসব জাহাজ সনাক্ত করতে পারেনি।
এগুলোকে তথাকথিত ‘ভূত-জাহাজ’ বলা হচ্ছে, যেগুলোর ট্রান্সমিটারগুলো বন্ধ ছিল।
সম্প্রচারকারীরা অবশ্য বলেছে, তারা রাশিয়ান নৌঘাঁটিতে পাঠানো রেডিও যোগাযোগ ব্যবহার করে তাদের গতিবিধি ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছে।
গতিবিধিগুলো একজন প্রাক্তন ব্রিটিশ নৌ গোয়েন্দা কর্মকর্তার ট্র্যাক করেছিলেন, যিনি ২০১৮ সালে অবসর নেয়ার আগে পর্যন্ত রাশিয়ান বাল্টিক ফ্লিটের ইন্টারসেপশনে কাজ করতেন৷
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ!
বেনামী ওই অফিসার বলেছেন, তিনি তার গবেষণা চালাতে ওপেন সোর্স তথ্য এবং রেডিও যোগাযোগ ব্যবহার করেন৷
রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে নর্ডস্ট্রিম বিস্ফোরণের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। বিস্ফোরণের পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো ও রাশিয়া এ ব্যাপারে একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে।
অতিসম্প্রতি এমন খবরও পাওয়া গেছে যে, এ ঘটনায় গোয়েন্দারা ইউক্রেনপন্থীদের দিকে ইঙ্গিত করেছে, তবে খোদ ইউক্রেনের সরকারের দিকে নয়।
একাত্তর/এসজে
