জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারাবি আহমেদ হৃদয়কে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হৃদয়ের বস্তাবন্দী মরদেহ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুলিয়ার শ্রীপুরে অভিযান চালিয়ে একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহ যাতে ভেসে না ওঠে সেজন্য বস্তার সাথে ইট বেধে দিয়েছিল হত্যাকারীরা।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার একজন হলেন মানিকগঞ্জ সদর থানার মুয়াজ হোসেন পরাণ (২২)। তিনি আশুলিয়ার জামগড়ায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন ও স্থানীয় ফার্নিচারের দোকানের কর্মচারী। বুধবার রাত ১০টার দিকে জামগড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অপরজন হলেন বগুড়ার সোনাতলা থানার সুমন মিয়া বাপ্পী (২৫)। তিনি আশুলিয়ার শ্রীপুরে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন ও পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। তাকে বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪।
এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর থেকে আকাশ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তিনি পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১০ দিন আগেই হৃদয়কে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়া হয়েছিল। এর আগে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেছিল হত্যাকারীরা।
নিহত মো. হৃদয় আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ফজলুল হক মিয়ার ছেলে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
গত ৮ মে জামগড়ার বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন হৃদয়। পরে ১১ মে আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে নিহতের পরিবার। এর মধ্যে হৃদয়ের ফোন নম্বর থেকে পরিবারের কাছে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবী করে আসছিল।
আরও পড়ুন: মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ
ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রহমান জানান, গত ৮ মে সকাল ১০টার দিকে পরাণ হৃদয়কে তার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন।
তবে সেদিন দুপুর তাকে হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাখে অপহরণকারীরা। পরে বিকাল ৪টার দিকে শ্রীপুরের একটি পুকুরে বস্তার সঙ্গে ইট বেঁধে মরদেহ ডুবিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় মোট চারজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
একাত্তর/এসজে
